কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে নিখোঁজ হওয়া ছাত্রশিবির নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে কেউ অপহরণ করেনি। একটি ধর্ষণ মামলার পরিণতি এড়াতে তিনি স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে ছিলেন। কুমিল্লা জেলা পুলিশ এই দাবি করেছে। জিসান মিয়া প্রধান বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। তিনি কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি।
আজ শনিবার (১৩ জুন) বিকেল ৩টায় কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এই তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন জিসানের চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ১১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হন। জিডির ভিত্তিতে জেলা পুলিশের একাধিক টিম অনুসন্ধান শুরু করে। তারা এই কাজে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। ওই নারী ২৫ বছর বয়সী একজন বিধবা। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের দাবি, গত ২০ মে দাউদকান্দিতে জিসানের ভাড়া বাসায় ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়। জিসান তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীতে একাধিকবার একই প্রলোভনে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এর ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তার ভ্রূণ নষ্ট করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান তাকে আশ্বাস দেন। জিসান ১২ জুন বিয়ে করবেন বলে জানান। তবে তিনি ১১ জুন রাতেই আত্মগোপনে চলে যান। নিজের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টিকে অপহরণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন জিসান। এই উদ্দেশ্যে তিনি চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করিয়েছিলেন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এদিকে শুক্রবার (১২ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয়রা জিসানকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তাকে কুমিল্লার লাকসাম জংশন রোড এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে লাকসাম থানা পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। উদ্ধার হওয়ার পর জিসান দাবি করেছিলেন, তাকে গাড়িযোগে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে তদন্তে অপহরণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। জিসানকে উদ্ধারের পর ওই নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা করেন। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এই মামলা করেন। মামলায় জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা, ভ্রূণ নষ্ট এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মামলার ঘটনায় তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই মামলার তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে।