নওগাঁর মহাদেবপুরে জমি দখল, নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার একদিনের মাথায় হাসিনা বানু নামে এক নারীকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আজ শনিবার (১৩ জুন) মহাদেবপুর থানা একটি মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সুনির্দিষ্ট দাবি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডলের সরাসরি নির্দেশে তার সমর্থকরা এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা জানায়, জমি দখল, সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার মহাদেবপুরে উপজেলা বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে একটি বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হাসিনা বানু প্রকাশ্যে জনসম্মুখে আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। পরের দিন মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার জেরে শুক্রবার সকালে জুয়েল, টিপু, রোমজান, আঞ্জুমান, শাহনাজ ও মনেক্কাসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি হাসিনা বানুর বাড়িতে আকস্মিক চড়াও হয়ে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে একটি গাছের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্যাতনের একপর্যায়ে চরম অমানবিক উপায়ে তার শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে মরিচের গুঁড়া প্রয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সম্পূর্ণ মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হাসিনা বানুকে রক্ষা করতে গেলে তার স্বামী বাবর আলীকেও প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে, এতে তিনিও গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে মহাদেবপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নির্যাতিত হাসিনা বানু ও তার স্বামীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়।
হাসপাতাল থেকে হাসিনা বানু অভিযোগ করে বলেন, মানববন্ধনে আমি কেবলই সত্য ঘটনা তুলে ধরেছিলাম। সেই ক্ষোভ থেকেই আমার ওপর এই বর্বরোচিত হামলা ও অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমি এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের কঠোর বিচার চাই।
মহাদেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা হাসিনা বানুকে উদ্ধার করেছি। তার শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট কিছু আলামত ও চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে হামলাকারীদের পক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য কেনাবেচার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ঘটনাস্থল তল্লাশি করে তার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর ফারুকের সঙ্গে আজ কথা হলে তিনি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আটকের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মণ্ডল। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের দলেরই একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র করছে। এই ঘটনাটি সেই গভীর ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ।