৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট নিয়ে সংসদে যা বললেন নিপুন রায়

বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের সাহসী রূপরেখা এবারের বাজেট—এমন মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা অতিক্রম করে একটি কল্যাণমুখী ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের যে রূপরেখা অর্থমন্ত্রী উপস্থাপন করেছেন, তা প্রশংসার দাবিদার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রণীত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।

তিনি বলেন, সমালোচকরা বাজেট ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন, তবে একটি ভাঙা অর্থনীতিকে পুনর্গঠনে কিছু ব্যয় অনিবার্য। বাজেটের সবচেয়ে বড় শক্তি এর বহুমাত্রিকতা। কন্টেন্ট নির্মাতা, কৃষক, কর্মজীবী নারী, প্রবাসী, শিক্ষার্থী ও রোগী—সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষের প্রয়োজন এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, সব ধরনের কন্টেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয় করমুক্ত রাখা এবং ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব তরুণদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে অবদানকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিল সম্প্রসারণ, শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সক্ষমতায় বিনিয়োগ।

নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ তুলে নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, নারীর নামে ৪১ লাখ ফ্যামিলি কার্ডের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাদের জন্য করসুবিধা নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াবে।

তিনি আরও বলেন, কর্মজীবী নারীদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২০টি এবং পরবর্তী পর্যায়ে ৬০টি আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নারীদের মাসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্যানিটারি ন্যাপকিনের কাঁচামাল আমদানিতে করসুবিধা থাকলেও এর মূল্য ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি একে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হিসেবে বিবেচনার আহ্বান জানান।

নিপুন রায় চৌধুরী আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সার ও কৃষি উপকরণে সহায়তা, ক্যানসারের ওষুধ, হার্টের রিং ও ডায়ালাইসিস ফিল্টারে কর হ্রাস, প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কার্ড এবং দক্ষ কর্মীদের জন্য স্মার্ট স্কিল ব্যাংক চালুর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু স্লোগান নয়, গঠনমূলক সমাধান নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া উচিত।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাজেট বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে এবং তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এসএন/কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *