৮৫ ঘণ্টা পর ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফিরল ২ শিশু

ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর ৮৫ ঘণ্টারও বেশি সময় কেটে গেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত মানুষ উদ্ধারের আশাও তত ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও আশার আলো জাগিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে আলাদা আলাদা স্থান থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা ১১ বছর বয়সী দুই শিশুকে উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। খবর বিবিসির।

প্রথম শিশুটির নাম মোয়েসেস। কলম্বিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানিয়েছে, মোয়েসেস প্রায় ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) গভীর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। স্থানীয় শনিবার (২৭ জুন) টানা ৬ ঘণ্টার অত্যন্ত নিখুঁত ও জটিল অভিযানের পর তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তীব্র সূর্যালোক থেকে চোখ রক্ষা করতে কাপড় দিয়ে চোখ ঢাকা অবস্থায় তাকে যখন বের করা হচ্ছিল, তখন উপস্থিত সবাই হাততালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, যে ঘরের ধ্বংসস্তূপে মোয়েসেসকে পাওয়া গেছে, তার কাছেই তার মা ও বোনের মরদেহ পড়ে ছিল।

মোয়েসেসকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ কারাবালেদা শহর থেকে ১১ বছর বয়সী আরও একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধারের কথা ঘোষণা করেন। স্ট্রেচারে করে তাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে নামিয়ে আনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) শেয়ার করে তিনি লেখেন, এই কঠিন সময়ে প্রতিটি জীবনই ভেনিজুয়েলার জন্য একটি নতুন আশা।

ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজের সংখ্যা

গত বুধবার (২৪ জুন) ভেনিজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে শত শত বহুতল ভবন ধসে পড়ে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এক হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ (বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে যা প্রায় ৫০ থেকে ৬৮ হাজার) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা। বারবার আফটারশক বা পরবর্তী কম্পনের ভয়ে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে গাড়ি অথবা খোলা মাঠে তাঁবু খাটিয়ে বাস করছেন। কারাবালেদা শহরের একটি সুপরিচিত ও বিলাসবহুল গলফ কোর্স এখন জরুরি উদ্ধার কাজের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এর সবুজ মাঠ এখন রূপ নিয়েছে অস্থায়ী হাসপাতাল ও ত্রাণ কেন্দ্রে। মাঠের একপাশে তৈরি করা হয়েছে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাড, যেখানে দেশ ও বিদেশ থেকে আসা ত্রাণ সামগ্রী নামানো হচ্ছে।

সরকারের উদ্ধার কার্যক্রম ধীরগতির হওয়ায় স্থানীয় মানুষ নিজেদের হাত ও কোদাল দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছিলেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মেক্সিকো, স্পেন, কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ভেনিজুয়েলায় পৌঁছেছে।

জাতিসংঘের প্রতিনিধি টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৯টি বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। মানুষের অবস্থান শনাক্ত করতে তারা বিশেষ ধরনের ‘ককরোচ ড্রোন’ বা ক্ষুদ্র রোবট ড্রোন এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর ব্যবহার করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *