হাইতির ৫২ বছর বনাম স্কটল্যান্ডের ২৮ বছর, এক মঞ্চে মুখোমুখি

ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ছোট্ট দেশ হাইতি। প্রায় এক কোটি মানুষের এই দেশটি ৫২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে আবারও জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে। অন্যদিকে, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে স্কটল্যান্ড। দুই দলের এই প্রত্যাবর্তনের গল্প মিলিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচটি হয়ে উঠেছে বিশেষ আকর্ষণের।

রোববার (১৪ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবে দুই দল। ম্যাচটি বাংলাদেশে সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, টি-স্পোর্টস আর সময় টিভি। অনলাইনে দেখা যাবে টফি, বায়োস্কোপ প্লাস, আই-স্ক্রিণ, মাই রবি আর মাই এয়ারটেল অ্যাপে।

১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে হাইতি। কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা ও হন্ডুরাসকে পেছনে ফেলে গ্রুপসেরা হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেয়। দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা এই দলটি এবার ইতিহাস নতুন করে লিখতে চায়।

হাইতির আক্রমণের মূল ভরসা ডাকেন্স নাজঁ। বাছাইপর্বে ছয় গোল করে তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। কোস্টারিকার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে হ্যাটট্রিক করে আলোচনায় আসেন এই ফরোয়ার্ড। শুধু গোলই নয়, পুরো বাছাইপর্বে সবচেয়ে বেশি শট নেওয়া ও প্রতিপক্ষের বক্সে সবচেয়ে বেশি বল স্পর্শ করার কৃতিত্বও তার।

আক্রমণে আরও শক্তি যোগ করেছেন সান্ডারল্যান্ডের উইলসন ইসিদর। ফ্রান্স থেকে জাতীয়তা পরিবর্তন করে দলে যোগ দেওয়ার পর চার ম্যাচে দুটি গোল করেছেন তিনি। প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৪-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই বিশ্বকাপে এসেছে ক্যারিবীয় দলটি।

তবে রক্ষণভাগ নিয়ে বড় সমস্যা রয়ে গেছে হাইতির। বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচ খেলা দলগুলোর মধ্যে কেবল বারমুডা ও নিকারাগুয়ার চেয়ে কম গোল হজম করেছে তারা। তাই শক্তিশালী স্কটল্যান্ডের আক্রমণ সামলানো হবে বড় পরীক্ষা।

অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে স্কটল্যান্ড। ইউরোপীয় বাছাইপর্বে ডেনমার্ককে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা টিকিট নিশ্চিত করে। জাতীয় দলের ইতিহাসে একাধিক বড় টুর্নামেন্টে দলকে তোলার কৃতিত্ব এখন কোচ স্টিভ ক্লার্কের দখলে।

স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা স্কট ম্যাকটোমিনে। ২০২৩ সালের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ১৩ গোল করেছেন তিনি। বাছাইপর্বেও গোল ও অ্যাসিস্টে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে জন ম্যাকগিন, অ্যান্ডি রবার্টসন, চে অ্যাডামস ও লরেন্স শ্যাঙ্কল্যান্ড স্কটল্যান্ডকে দিয়েছে ভারসাম্য ও অভিজ্ঞতা।

বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত ফর্মে ছিল স্কটল্যান্ড। কুরাসাওকে ৪-১ এবং বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে তারা এসেছে আত্মবিশ্বাসের চূড়ায়।

এই দুই দলের মধ্যে এটিই প্রথম দেখা। আগে কখনো কোনো প্রতিযোগিতামূলক বা প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়নি তারা। এমনকি ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের কোনো দলের বিপক্ষেও হাইতির অভিজ্ঞতা নেই।

পরিসংখ্যান অবশ্য স্কটল্যান্ডের পক্ষেই কথা বলছে। অপ্টার সুপারকম্পিউটারের ২৫ হাজার সিমুলেশনের ৫৯ শতাংশে জয় পেয়েছে তারা। হাইতির জয়ের সম্ভাবনা ১৯.২ শতাংশ, আর ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ২১.৮ শতাংশ।

তবু বিশ্বকাপে পরিসংখ্যান সবসময় বাস্তবতা নির্ধারণ করে না। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে ফেরা দুই দলের কাছেই এই ম্যাচ কেবল তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং নিজেদের নতুন করে জানান দেওয়ার সুযোগ। বোস্টনের এই রাত তাই হয়ে উঠতে পারে নতুন ইতিহাসের সাক্ষী।

সম্ভাব্য একাদশ

হাইতি : জনি প্লাসিদে; কার্লেন্স আর্কুস, রিকার্দো আদে, হানেস ডেলক্রোয়া, জ্যঁ-কেভিন ডুভের্ন; ড্যানলি জ্যঁ জ্যাক, কার্ল সান্তে, লেভারটন পিয়েরে; উইলসন ইসিদর, ডাকেন্স নাজঁ, ফ্রান্টজদি পিয়েরো।

স্কটল্যান্ড : অ্যাঙ্গাস গান; জ্যাক হেনড্রি, গ্রান্ট হ্যানলি, কিয়ারান টিয়ার্নি; অ্যান্থনি রালস্টন, স্কট ম্যাকটোমিনে, বিলি গিলমোর, অ্যান্ডি রবার্টসন; জন ম্যাকগিন, রায়ান ক্রিস্টি; চে অ্যাডামস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *