ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানলের কারণে প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ও অবকাশ কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্প্যানিশ দমকলকর্মীরা রাজধানী মাদ্রিদের কাছে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার আশা প্রকাশ করলেও একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, বাতাস থাকার কারণে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শহরটিতে পশ্চিমের আকাশ ঘন ধূসর ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে। খবর আল জাজিরার।
মাদ্রিদের আঞ্চলিক সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান কার্লোস নোভিলো বলেছেন, রাজধানীর কাছের এ দাবানল এখন চরমে পৌঁছেছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনা বর্তমানে দমকলকর্মীদের ক্ষমতার বাইরে।
স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মাদ্রিদ অঞ্চলে আগুনে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এবং পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশে ১৩ হাজার থেকে ১৫ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে।
গতকাল শুক্রবার দুটি পৃথক দাবানল একত্র হয়ে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি করে। এটি পার্শ্ববর্তী কাস্তিয়া ই লিওন অঞ্চলের আরেকটি দাবানলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের আজ শনিবার সকালে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কেন্দ্রস্থল সেনিসিয়েন্তোস গ্রামে একটি জরুরি বৈঠকে অংশ নেওয়ার এবং পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার কথা ছিল।
শনিবার ফ্রান্সে বোর্দোর নিকটবর্তী এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কারণ শহরটির আশপাশের এলাকায় দাবানল কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান সোফি ব্রোকাস বলেছেন, ল্য হাইয়াঁ, আইসিন ও মেরিনিয়াক এলাকাগুলো খালি করে ফেলা হচ্ছে।
বোর্দোর দক্ষিণে অবস্থিত অভিজাত ক্যাপ ফেরেট উপদ্বীপ থেকে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে। সেখানকার একমাত্র সড়কেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার হুমকি সৃষ্টি হয়েছিল। পরে নৌকাযোগে শত শত মানুষকে আগুন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানকার ৫০টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু বলেছেন, জিরোন্দ এবং লঁদ অঞ্চল থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৪১ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী লেকোর্নু আজ শনিবার এক্সে লেখেন, ‘আমাদের দেশে যে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে, তা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।’
সাহায্যের জন্য ফরাসি সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সহায়তা চেয়েছেন। দাবানল থামানোর অভিযানে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীকে একটি সামরিক পরিবহণ বিমান মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রী লেকোর্নু।
প্যারিস ফায়ার ব্রিগেডের কমান্ডার আর্নড ডি ক্যাকেরে সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, আগুন নেভাতে সাহায্যের জন্য প্যারিসের প্রায় ১০০ জন দমকলকর্মীকেও মোতায়েন করা হয়েছে।
মে মাস থেকে ইউরোপের কিছু অঞ্চলে অন্তত দুটি তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট খরা এ বছর দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে, চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমনটাই জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গ্রুপ।