ফুটবল ক্যারিয়ারে ইতোমধ্যে তিনটি বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার পোস্টার বয় সন হিউং-মিন। এবার নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ এবং সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ আসরে মাঠে নামার আগে এক বড় স্বপ্নের কথা জানালেন এই এশিয়ান তারকা।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বমঞ্চে দক্ষিণ কোরিয়াকে সেমিফাইনালে তোলাই এখন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের প্রধান লক্ষ্য। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপ দিয়ে বিশ্বমঞ্চে অভিষেক হয়েছিল সনের। সেই আসরে খেলা দক্ষিণ কোরিয়ার স্কোয়াডের মধ্যে মাত্র দুজন ফুটবলার জায়গা পেয়েছেন এবারের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দলে, যার মধ্যে সন অন্যতম।
নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছিল ২০০২ সালে, ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে। সেবার সবাইকে চমকে দিয়ে সেমিফাইনালে খেলেছিল দলটি। কাকতালীয়ভাবে, ইতিহাসের সেই সেরা আসরে দক্ষিণ কোরিয়া দলকে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক হং মিয়ং-বো এখন দলটির প্রধান কোচের দায়িত্বে আছেন।
সম্প্রতি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সন জানিয়েছেন, তিনি তার বর্তমান কোচের সেই ঐতিহাসিক কীর্তিরই পুনরাবৃত্তি করতে চান।
সন বলেন, ‘আমাদের বর্তমান কোচ খেলোয়াড় হিসেবে অবিশ্বাস্য এক সাফল্য অর্জন করেছিলেন। ২০০২ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এক চমৎকার রূপকথার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। এবার আমার সতীর্থদের নিয়ে আমি ঠিক তেমনই একটি ঐতিহাসিক যাত্রা উপহার দিতে চাই। আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সেই ২০০২ সালের চমৎকার সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করা।’
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার পথটা যে মোটেও সহজ হবে না, তা খুব ভালো করেই জানা আছে টটেনহ্যামের সাবেক এই তারকার। এই কঠিন লক্ষ্য অর্জনে ফুটবলার থেকে শুরু করে দেশের কোটি সমর্থক— সবাইকে একসঙ্গে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এশিয়ান এই ফুটবল তারকা বলেন, ‘আমার মনে হয় না এত বড় অর্জন শুধু মাঠের খেলোয়াড়দের একার পক্ষে করা সম্ভব। এর জন্য সবাইকে সত্যি সত্যি এক হয়ে কাজ করতে হবে। দেশের মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের মাঠে বাড়তি শক্তি জোগায়। তেমন বড় কিছু অর্জন করতে হলে প্রত্যেককে হৃদয়ে ও মনে এক থাকতে হবে। যেহেতু এটি আমার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে, তাই আমি একটি অসাধারণ সমাপ্তির আশা করছি।’
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কোরিয়ান অধিনায়ক বলেন, ‘ভক্তদের কাছে আমার একটাই অনুরোধ— আপনারা যদি মনেপ্রাণে আমাদের সমর্থন দিয়ে সবসময় পাশে থাকেন, তবে আমি খেলোয়াড়দের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেব এবং আমরা কোনো ভয় ছাড়াই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হব।’
আগামী ১১ জুন চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে দক্ষিণ কোরিয়ার এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। ‘এ’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হলো স্বাগতিক মেক্সিকো এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।