শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

চীন সফরের তৃতীয় দিনে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস, বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ ও দেশের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে চীনের সক্রিয় সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়েছেন তিনি। খবর রয়টার্সের। 

গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বেইজিং সফর। গত বুধবার (২৪ জুন) শুরু হওয়া এই তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং উন্নয়ন অর্থায়নকারী দেশ চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা দিচ্ছে ঢাকা।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে চীন বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের আমদানিতে বিশেষ ছাড় দিতে পারে। মিডিয়া পুলের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চীনকে বাংলাদেশ থেকে তাজা আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, জলজ পণ্য (মাছ ও অন্যান্য), কাঁচা চামড়া, পাটজাত পণ্য ও ওষুধ সামগ্রী আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

এর পাশাপাশি বাংলাদেশের বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলোর আধুনিকীকরণ ও দেশের সিগনেচার বা মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বেইজিংয়ের আর্থিক ও কারিগরি সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের ফ্ল্যাগশিপ অবকাঠামো প্রকল্প ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে’ (বিআরআই) যোগ দেয়।

চীনের সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি মানসম্পন্ন পণ্য আমদানি করতে আগ্রহী বেইজিং। পাশাপাশি বাংলাদেশের উদীয়মান খাত যেমন- সবুজ বা নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল ইকোনমি (ডিজিটাল অর্থনীতি) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আশ্বাস দিয়েছেন শি জিনপিং। এর আগে গত বৃহস্পতিবার চীনের প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে বেশ কয়েকটি সহযোগিতা চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর চীনের ঋণ রয়েছে ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন (৬২০ কোটি) ডলার। এছাড়া বেইজিং-ভিত্তিক এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে বাংলাদেশ আরও ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছে। এর বিপরীতে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, বাংলাদেশে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এ পর্যন্ত ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে, যার প্রায় অর্ধেকই এসেছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে।

তবে বেইজিংয়ে কর্মরত ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সিনিয়র অ্যানালিস্ট চিম লি মন্তব্য করেছেন, চীন এখন আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক। তিনি বলেন, চীন বর্তমানে মূলত এমন কৌশলগত লজিস্টিক করিডোরগুলোতে বড় বিনিয়োগ করতে চাইছে যা সহজেই সম্প্রসারণযোগ্য। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান সেন্ট্রাল এশিয়া বা মিয়ানমারের মতো সরাসরি কোনো করিডোর সুবিধা দেয় না বলে বেইজিং এখানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হিসাব-নিকাশ করে এগোচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *