লাল কার্ড নিয়ে নাটক, তুরস্ককে বিদায় করে আশা বাঁচিয়ে রাখল প্যারাগুয়ে

ম্যাচের অর্ধেকেরও বেশি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হলেও জয় তুলে নিতে কোনো সমস্যা হয়নি প্যারাগুয়ের। দারুণ লড়াইয়ে আজ তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার আশা জিইয়ে রাখল লাতিন আমেরিকার দলটি।

অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় হারে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে তুরস্কের। এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ০-২ গোলে হেরেছিল তারা।

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। খেলা শুরুর মাত্র ৬৫ সেকেন্ডের মাথায় মাতিয়াস গালারজার গোলে লিড নেয় দলটি। দ্রুত পাওয়া সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়।

প্রথমার্ধে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধাক্কা খায় প্যারাগুয়ে। একজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। এরপর সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় তুরস্ক। তবে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ছিল অনড়।

ম্যাচের বাকি সময় তুরস্ক একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও গোলের দেখা পায়নি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে প্যারাগুয়ে।

এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করল প্যারাগুয়ে। ফলে শেষ ম্যাচের আগে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে তাদের। বিপরীতে দুই ম্যাচেই হারায় গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের।

এদিকে বিশ্বকাপে নতুন নিয়মের প্রয়োগে প্রথম লাল কার্ড দেখলেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরন। টার্কির বিপক্ষে ম্যাচে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর কারণে সরাসরি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে এই ঘটনা ঘটে। ম্যাচের সময় তার্কির খেলোয়াড় মের্ত মুলদুরের সঙ্গে তর্কে জড়ান আলমিরন। সেই সময় তিনি হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ইশারা করেন। এরপরই রেফারি ইভান বার্টনের সিদ্ধান্তে ভিএআর-এর সাহায্যে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।

বিশ্ব ফুটবলের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি মুখ, হাত বা জার্সি দিয়ে ঢেকে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইশারা করেন, তাহলে সেটিকে গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সরাসরি লাল কার্ড দেখানো যাবে। অভিযোগ রয়েছে, এর মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য বা আচরণ গোপন করার চেষ্টা করা হতে পারে।

এই নিয়মটি সম্প্রতি প্রবর্তিত হয়েছে এবং বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো এর প্রয়োগ দেখা গেল। ফলে আলমিরনের এই লাল কার্ডকে টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ম্যাচে তখন প্যারাগুয়ে ১–০ গোলে এগিয়ে ছিল। গুরুত্বপূর্ণ অবস্থায় এমন লাল কার্ড দলটির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনার পর মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সতীর্থরা রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়ান। তবে ভিএআর রিভিউয়ের পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিয়ম খেলায় শৃঙ্খলা আনতে সহায়ক হলেও এর প্রয়োগ নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আলমিরনের ঘটনা সেই বিতর্কেরই প্রথম বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে!

এসএন/কে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *