রোনালদোর নৈপুণ্যে উজবেকিস্তানের জালে গোল উৎসব করল পর্তুগাল

প্রথম ম্যাচে হোচট খেয়ে পর্তুগালের জন্য দ্বিতীয় ম্যাচটি বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল। পাহাড়সম চাপ নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও। ম্যাচের শুরুতেই দারুণ পারফরম্যান্সে জ্বলে উঠলেন রোনালদো। পর্তুগালও টুর্নামেন্টে ফিরলো আধিপত্য বিস্তার করে। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ– উজবেকিস্তানকে কোনঠাসা করে রাখল পর্তুগাল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে রীতিমতো গোল উৎসব করে নিল তারা।

আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল। ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য করে ৫-০ গোলের জয় পেয়েছে পর্তুগিজরা।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে পর্তুগাল। ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো নিখুঁত ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে বল জালে পাঠান রোনালদো। এই গোলেই ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তি গড়েন তিনি। 

ম্যাচের ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন নুনো মেন্দেস। বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি-কিক থেকে সবাই যখন রোনালদোর শটের অপেক্ষায়, তখন চমক দেখান মেন্দেস। নিচু শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। 

ম্যাচের ২৯তম মিনিটে বক্সের সামনে থেকে বুলটে গতির কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়েছিলেন উজবেকিস্তানের আজিজজন গানিভ। পর্তুগালের গোলরক্ষক দিযোগো কস্তা ঝাঁপিয়ে পড়েও সেটি আটকাতে পারেননি। তবে ভিএআর চেক রেফারি দেখেন তার আগেই জোয়াও ক্যানসেলোকে ফাউল করেছিলেন উজবেকিস্তানের আব্বোসবেক ফায়জুল্লায়েভ। ফলে গোল বাতিল করেন রেফারি।

ম্যাচের ৩৮তম মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন রোনালদো। প্রতিআক্রমণে ওঠে পর্তুগাল। মাঝমাঠ থেকে একাই বল নিয়ে এগিয়ে যান ব্রুনো ফার্নান্দেস। প্রায় ৪০ গজ দূরে থেকে বক্সের ডান পাশে রোনালদোকে ক্রস বাড়ান তিনি। সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ শটে উজবেক গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন সিআরসেভেন।

যোগ করা সময়ে হ্যাটট্রিকের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন রোনালদো। তবে এবার আর উজবেকিস্তানের ডিফেন্স ভাঙতে পারেননি তিনি। বাকি সময়ে দুই দলই চেষ্টা করেছে গোলের জন্য। তবে গোলমূখ খুলতে পারেনি কেউই। ম্যাচের বিরতিতে যাওয়ার আগেই কার্যত ফল নির্ধারিত হয়ে যায়। 

দ্বিতীয়ার্ধে উজবেকিস্তান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও পর্তুগালের চাপ সামলাতে পারেনি। ৬০ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের কর্নার থেকে সৃষ্ট জটলায় বল গিয়ে লাগে গোলরক্ষক আবদুভোহিদ নেমাতভের গায়ে। সেখান থেকে বল জড়িয়ে যায় জালে। আত্মঘাতী গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। 

ম্যাচের শেষদিকে বদলি হিসেবে নামা রাফায়েল লেয়াওও নাম লেখান স্কোরশিটে। ৮৭ মিনিটে দারুণ এক ফিনিশে উজবেকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন তিনি। 

পুরো ম্যাচজুড়ে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পষ্ট আধিপত্য দেখিয়েছে রবের্তো মার্তিনেসের দল। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ড্রয়ের হতাশা কাটিয়ে এই জয়ে নকআউট পর্বের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল পর্তুগাল। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয় হারে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে গেল উজবেকিস্তান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *