সহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের প্রখ্যাত সাময়িকী ‘তেহেলকার’ সাবেক প্রধান সম্পাদক তরুণ তেজপালকে (৬২) ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির বোম্বে হাইকোর্টের গোয়া বেঞ্চ। আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ২০২১ সালে বিচারিক আদালতের দেওয়া খালাসের আদেশ বাতিল হলো। খবর আলজাজিরার।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি নীলা গোখলে ও বিচারপতি অমিত জামসান্দেকারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তরুণ তেজপালকে দোষী সাব্যস্ত করে এই দণ্ডাদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন এবং জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় ‘তেহেলকার’ সাময়িকীর একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন চলাকালীন এক পাঁচ তারকা হোটেলের লিফটে তরুণ তেজপাল তার এক জুনিয়র নারী সহকর্মীকে যৌন নির্যাতন করেন। ঘটনার পর তেজপাল ইমেইলে সহকর্মীদের কাছে এটিকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ ও ‘অনভিপ্রেত ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে ছয় মাসের ছুটি নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে এই ঘটনায় দেশজুড়ে তুমুল সমালোচনার ঝড় উঠলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাত মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তি পান।
২০২১ সালের মে মাসে গোয়ার একটি নিম্ন আদালত প্রমাণের অভাব ও ভুক্তভোগীর আচরণগত যুক্তিতে তেজপালকে খালাস দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে বোম্বে হাইকোর্টে আপিল করে গোয়া সরকার।
আপিলের পর্যালোচনায় হাইকোর্ট জানায়, নিম্ন আদালতের রায়টিতে ‘গুরুতর ভুল ও পক্ষপাত’ ছিল। আদালত উল্লেখ করেন, কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি নারীদের কর্মজীবনের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ভুক্তভোগীর স্বাভাবিক আচরণ না করাকে অজুহাত বানিয়ে আসামিকে ছাড় দেওয়া যায় না।
আদালতের রায়ের পর তরুণ তেজপাল নিজেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।