দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। তাঁর নতুন ছবি ‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’-এর মুক্তিকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অভিনয় জীবনের শুরু, তারকাখ্যাতির প্রভাব, ব্যক্তিগত সংগ্রাম এবং দীর্ঘ অসুস্থতার অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।
সামান্থা জানান, ছোট শহর থেকে উঠে এসে চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর জন্য ছিল অবিশ্বাস্য। অভিনয়ে আসার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকদের বিপুল ভালোবাসা ও পরিচিতি পান। হঠাৎ করে এত মানুষের আগ্রহ, প্রশংসা এবং ভালোবাসা তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। তিনি স্বীকার করেন, একসময় খ্যাতি ও সাফল্যের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল এবং সেই মোহ থেকে বেরিয়ে আসা সহজ ছিল না।
অভিনেত্রী বলেন, জীবনের একটি পর্যায়ে তিনি শুধু কাজ নিয়েই ভাবতেন। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করতেন এবং সবসময় নতুন কাজের খোঁজে থাকতেন। দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করার দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। ফলে বিশ্রাম বা নিজের জন্য সময় বের করার কথা খুব কমই ভাবতেন।
তিনি স্মরণ করেন, এক বছরে তাঁর অভিনীত কয়েকটি ছবি ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল। সেই সময় তাঁকে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবেও দেখা হতো। এই সাফল্য যেমন তাঁকে আনন্দ দিয়েছিল, তেমনি আরও ভালো করার চাপও বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন যে এই সাফল্যের ধারা হয়তো কখনো থামবে না।
তবে জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি মায়োসাইটিস নামের একটি জটিল রোগে আক্রান্ত হন। অসুস্থতার কারণে তাঁকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হয় এবং অভিনয় থেকে বিরতি নিতে বাধ্য হতে হয়। প্রথমদিকে দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশা থাকলেও বাস্তবে সুস্থ হতে অনেক বেশি সময় লেগেছে।
এই বিরতির সময়টিই তাঁকে নতুনভাবে জীবনকে দেখার সুযোগ করে দেয়। সামান্থা বলেন, আগে তিনি মনে করতেন অভিনয়জীবন ও জনপ্রিয়তার যাত্রা যেন কখনো শেষ হবে না। কিন্তু অসুস্থতা তাঁকে বুঝিয়েছে, জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েরই একটি সীমা আছে। খ্যাতি, সাফল্য কিংবা কর্মজীবন সবকিছুই একসময় পরিবর্তিত হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এই সময় তিনি নিজের জীবন, অভ্যাস এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ পেয়েছেন। অভিনয়ে ফিরে এলে আগের মতো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ না করে নিজের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতিও সমান গুরুত্ব দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সামান্থার মতে, জীবনে শুধু সাফল্য অর্জন করাই যথেষ্ট নয়, নিজের যত্ন নেওয়া, সুস্থ থাকা এবং জীবনের বাস্তবতাকে মেনে নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই উপলব্ধি এসেছে কঠিন এক সময়ের মধ্য দিয়ে, যা তাঁকে আগের চেয়ে আরও পরিণত ও সচেতন করে তুলেছে।
এদিকে তাঁর নতুন ছবি‘মা ইন্টি বাঙ্গারাম’ পরিচালনা করেছেন নন্দিনী রেড্ডি। দর্শকদের প্রত্যাশা, ছবিটি মুক্তির পর আবারও সামান্থাকে নতুন এক রূপে দেখতে পাওয়া যাবে।
এসএন/কে