অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। তবে শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। ব্যাটিং ব্যর্থতায় আসা-যাওয়ার মিছিলে যোগ দেন মুমিনুল হক-মুশফিকুর রহিমরা। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে নিঃসঙ্গ লড়াই করেন মেহেদী মিরাজ। সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে লড়াকু পুঁজি এনে দিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে দিনের দ্বিতীয় সেশনে ৭৫.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ২৬৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিনের শুরুতেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৭ রানের মাথায় ফিরে যান ওপেনার তানজীদ হাসান তামিম। রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। আরেক ওপেনার সাদমান ইসলাম ভালো শুরু পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলা চালিয়ে গেলেও থেমেছেন ৪৭ বলে ৩১ রানে।
মিডল অর্ডারে তিন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও দায়িত্ব নিতে পারেননি। ধরিগতির ব্যাটিংয়ে ৫৯ বলে ১৬ রান করে বিদায় নেন মুমিনুল। মুশফিক তো ৮ বল খেলে রানের খাতাই খুলতে পারেননি।
দল যখন ঘোর বিপদে তখন তরুণ অমিত হাসানকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন শান্ত। দুজন মিলে কাটিয়ে দিয়েছিলেন প্রথম সেশনের বাকি অংশ। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফিরতেই ভাঙে সেই প্রতিরোধ। ৫৩ বলে ৩৭ রানে ফেরেন শান্ত। এরপর অমিত হাসানও বেশি সময় টিকতে পারেননি। ৬১ বলে ১৫ রান করে আউট হন তরুণ এই ব্যাটার।
এরপর ষষ্ঠ উইকেটে সৌম্য সরকারের সঙ্গে জুটি বেঁধে বাংলাদেশের হাল ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজন মিলে গড়েছিলেন ৪৮ রানের জুটি। ৫৫তম ওভারে সৌম্য ফিরলে ভাঙে সেই জুটি। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৬ বলে রান।
এরপর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে জুটি গড়েন মিরাজ। কিন্তু এই জুটিও লম্বা হয়নি। ৩০ রান তুলতেই ফিরে যান তাইজুল। ১৫ বলে ১০ রান করেন তিনি। হাসান মাহমুদও (৬ বলে ৪) সঙ্গ দিতে পারেননি মিরাজকে।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়া মিরাজ খালেদ আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ঘরে। তার সেঞ্চুরিতেই আড়াইশ রান ছাড়ায় বাংলাদেশ। ২৮ বলে ১৫ রান করা খালেদ ফিরলে শেষ হয় বাংলাদেশের লড়াই। শেষ পর্যন্ত ১১ চার আর ৪ ছক্কায় ১৪১ বলে ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।