যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসায় পরিচালনা কমিটি গঠনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এনটিভি অনলাইনের যশোর জেলার মনিরামপুর-কেশবপুর প্রতিনিধি। এ সময় তার মোবাইল ফোনও ভাঙচুর করা হয়। আজ রোববার (২৮ জুন) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আজ সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি এনামুল হাসান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, চিংড়া ধর্মপুর দারুস সুন্নাহ আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গোপনে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠন করে তালিকা বাংলাদেশ মাদ্রাসা বোর্ডে পাঠান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে আজ সকালে মাদ্রাসার জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সাধারণ এলাকাবাসী ও অধ্যক্ষের পক্ষের লোকজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
গোপনে কমিটি গঠন ও জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশে কমিটি পাঠিয়েছি। নিয়ম অনুযায়ী কমিটি হয়েছে।
অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম এর আগেও ‘শৈরাশনি মাদ্রাসা’র সুপার থাকাকালীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের আইসি উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম হোসেন বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে পরিস্থিতি বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধির ওপর হামলা ও তাঁর মোবাইল ফোন ভাঙচুরের ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।
ইউএনও আরও বলেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন সংবাদকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হেনস্তা বা হামলার শিকার হবেন—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়েছি। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে মাদ্রাসার কর্মকর্তা বা অন্য যে কারও বিরুদ্ধে আনা মারধর, গালিগালাজ ও ভাঙচুরের অভিযোগের সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এনটিভি অনলাইন প্রতিনিধি এনামুল হাসানের ওপর অতর্কিত হামলা এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এমন হামলার ঘটনায় কেশবপুর ও মনিরামপুর কর্মরত সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।