ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয়জন নিহত হওয়ার কথা জানালেও ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এএসএম হুমায়ুন কবির সরকার বলেছেন, অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যুর খবর সঠিক নয়।

ঘটনার পর অগ্নিকাণ্ডের কারণ, হতাহত এবং সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয় খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল প্রশাসন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

হাসপাতালের কলেজের অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং গণপূর্ত বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।

তদন্ত কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের মূল উৎস, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থার কোনো ত্রুটি ছিল কি না এবং সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে মমেক হাসপাতালের নতুন বহির্বিভাগ ভবনের নিচতলায় লিফট নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যন্ত্রাংশ অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সোমবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এএসএম হুমায়ুন কবির সরকার, সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনুজ্জামান সরকার। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যুর যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। ছয়জনের মধ্যে একজন নারী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, বাকি পাঁচজনের মধ্যে তিনজনের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। অন্য দুইজনের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তারা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন কি না, তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে লিফটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগকে দায়ী করেছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনুজ্জামান সরকার। তিনি বলেন, হাসপাতালের লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। এ দুর্ঘটনার পেছনে তাদের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ, কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কি না এবং হতাহতের সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *