ভারতে কমল স্বর্ণের চাহিদা, বেড়েছে চীনে

বিশ্বের দুই শীর্ষ স্বর্ণ ভোক্তা দেশ ভারত ও চীনে চলতি সপ্তাহে সোনার বাজারে বিপরীতমুখী চিত্র দেখা গেছে। ভারতে সরকারি নীতিমালার জটিলতায় তৈরি হওয়া সরবরাহ সংকটে সোনার ‘প্রিমিয়াম’ (অতিরিক্ত মূল্য) গত আড়াই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে দাম স্থিতিশীল হওয়ায় চীনের বাজারে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ফের বাড়তে শুরু করেছে।

ভারতে কেন এই অস্থিরতা?

স্থানীয় বাজার সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে ভারত সরকার আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতিপত্র ইস্যু করতে দেরি করায় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ আমদানি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এর ফলে প্রায় ৫ টন সোনা কাস্টমসে আটকে পড়ে। যদিও ১৭ এপ্রিলের পর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে প্রযোজ্য কর (ট্যাক্স) কাঠামো নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা কাটেনি।

এই সরবরাহ সংকটের সুযোগে ডিলাররা ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার মূল্যের ওপর প্রতি আউন্সে ১৫ ডলার পর্যন্ত প্রিমিয়াম দাবি করছেন, যা গত ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। গত সপ্তাহে যেখানে সোনা ছাড় বা সামান্য প্রিমিয়ামে বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধি ক্রেতাদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

গত ১৯ এপ্রিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বড় উৎসব ‘অক্ষয় তৃতীয়া’ উদযাপিত হলেও ভারতের বাজারে সোনার চাহিদা ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম।

আহমেদাবাদের এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, উৎসবের সময়ও উচ্চমূল্যের কারণে খুচরা বিক্রি ছিল মন্দা। এখন ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার রুপির নিচে না নামলে বাজারে প্রাণ ফেরার সম্ভাবনা কম। বর্তমানে ভারতে ১০ গ্রাম সোনার দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ২০০ রুপির আশেপাশে ওঠানামা করছে।

চীনের বাজারে উল্টো চিত্র

ভারতের ঠিক বিপরীত অবস্থা বিরাজ করছে চীনের বাজারে। সাংহাই গোল্ড এক্সচেঞ্জে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক স্পট প্রাইসের ওপর ৯ থেকে ১২ ডলার প্রিমিয়ামে লেনদেন হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ছিল মাত্র ৩ থেকে ৬ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭০০ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল হওয়ায় চীনা ক্রেতারা নতুন করে সোনা কেনায় আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা ১৭ মাস ধরে সোনার মজুদ বৃদ্ধি করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *