গরমের এই তীব্রতায় শরীর ও মন শান্ত রাখতে খাবারের ভূমিকা অপরিসীম। ভাত ও রুটির তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গরমে ভাতের উপকারিতা রুটির চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। নিচে এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:
হজমের স্বস্তি ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ গরমে আমাদের বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজম কিছুটা ধীর হয়ে যায়। ভাত খুব সহজপাচ্য হওয়ায় এটি পাকস্থলীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না, যা শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে, রুটিতে থাকা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট এবং গ্লুটেন হজম করতে শরীরের অনেক বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়। হজম প্রক্রিয়ায় এই বাড়তি পরিশ্রমের ফলে শরীরে অভ্যন্তরীণ তাপ উৎপন্ন হয়, যা গরমের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পেট ঠান্ডা রাখতে ভাতের বিকল্প নেই।
পানির ভারসাম্য ও আর্দ্রতা রক্ষা ভাতের একটি বড় গুণ হলো এর উচ্চ জলীয় অংশ। ভাত রান্নার সময় চাল প্রচুর পানি শোষণ করে, যা খাওয়ার পর শরীরে পানির অভাব পূরণে পরোক্ষভাবে সহায়তা করে। বিশেষ করে দুপুরের কড়া রোদে ভাতের সাথে পাতলা ডাল বা লেবু শরীরকে ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে রক্ষা করে।
বিপরীত দিকে, রুটি একটি শুষ্ক খাবার। রুটি খাওয়ার পর শরীরে পানির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। গরমে যারা পর্যাপ্ত পানি পান করার সুযোগ পান না, তাদের জন্য রুটি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাসের সমস্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
প্রশান্তি ও উন্নত ঘুম গরমের ক্লান্তিতে রাতে অনেকেরই ঠিকমতো ঘুম হতে চায় না। ভাতে থাকা নির্দিষ্ট কিছু উপাদান মস্তিষ্কে প্রশান্তি আনে এবং দ্রুত ঘুমানোর সংকেত পাঠায়। রাতের খাবারে এক থালা হালকা ভাত খেলে শরীর শিথিল হয় এবং ঘুমের মান ভালো থাকে। অন্যদিকে, রাতে রুটি খেলে অনেক সময় পেটে ভারবোধ হতে পারে, যা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই এই মৌসুমে সুস্থ থাকতে এবং পেট ঠান্ডা রাখতে দুপুর ও রাতের খাবারে ভাতের প্রাধান্য দেওয়া এবং সাথে প্রচুর পরিমাণে মৌসুমি সবজি ও টক দই রাখা সবথেকে নিরাপদ সমাধান।