ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে খাদিম মিয়া (খাদেম মোল্লা) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।
রোববার (২৮ জুন) রাতে উপজেলার কালিকচ্ছ বাজারে কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি ও ধরন্তী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রণক্ষেত্রে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত খাদিম মিয়া উপজেলার ধরন্তী গ্রামের শামসুল হকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ মিয়া একই ইউনিয়নের ধরন্তী গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে পাটি বিক্রির ১ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। রোববার সন্ধ্যায় মোশাররফ মিয়া কালিকচ্ছ বাজারে আলাল ও আশিকের কাছে তার পাওনা টাকা ফেরত চান। এ সময় তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, খাদিম মিয়া তাদের টাকা দিতে বারণ করেছেন। এই নিয়ে মোশাররফ ও খাদিমের লোকজনের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা-কাটাকাটি এবং একপর্যায়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
টাকা নিয়ে সৃষ্ট সেই বিরোধের জেরে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উভয় গ্রামের শত শত মানুষ টেঁটা, বল্লম, লাঠিসোঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কালিকচ্ছ বাজারে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রাতের আঁধারে টর্চ লাইটের আলো জ্বালিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলতে থাকে। ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই দফায় দফায় সংঘর্ষের মাঝেই প্রতিপক্ষের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান খাদিম মিয়া।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণে সরাইল-নাসিরনগর আঞ্চলিক সড়কে দীর্ঘ সময় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। ইটপাটকেলের আঘাতে বাজারের বেশ কিছু দোকানপাটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক মানুষকে উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ আশেপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ এবং জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওবায়দুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আটকে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।