বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসা স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী (ইমিগ্র্যান্ট) ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেট, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এসব দেশের অভিবাসীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের ব্যয়ে সরকারি সহায়তা গ্রহণের হার বেশি। এ স্থগিতাদেশ পর্যটক ও শিক্ষার্থী ভিসাসহ অনভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিস্তারিত জানতে https://ow.ly/CuZa50YoYiW -লিংকে ভিজিট করতে বলা হয়েছে।পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য আপাতত সব ধরনের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্ত পর্যটক, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য অনভিবাসী (নন-ইমিগ্র্যান্ট) ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন, যা দেশটির করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বর্তমানে স্টেট ডিপার্টমেন্ট অভিবাসন সংক্রান্ত সব ধরনের যাচাই-বাছাই ও স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করছে। এর লক্ষ্য হলো— উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আগত অভিবাসীরা যাতে অবৈধভাবে কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে এবং রাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে।

প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, অভিবাসীদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে এবং তারা যেন আমেরিকানদের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বর্তমানে সব স্ক্রিনিং এবং যাচাইকরণ নীতিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে। এর উদ্দেশ্য হলো— উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যাতে যুক্তরাষ্ট্রে বেআইনিভাবে কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করতে না পারে বা তারা যেন রাষ্ট্রীয় বোঝা হয়ে না ওঠে, তা নিশ্চিত করা।

২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে স্টেট ডিপার্টমেন্ট নিম্নোক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সব প্রকার ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করেছে— আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা দ্বীপপুঞ্জ, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, বার্মা (মিয়ানমার), কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, কোত দিভোয়ার, কিউবা, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, ডোমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি।

এছাড়া গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টিনিগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, পাকিস্তান, রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন তালিকায় রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক অভিবাসন নীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সাময়িকভাবে সীমিত করবে।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *