যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ব্রাজিলের নির্বাচনে পরাজিত প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে দায়ী করে তাকে ‘কুফা’ বলে কটাক্ষ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। একইসঙ্গে, আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া এড়াতে বলসোনারো যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় খুঁজছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ব্রাজিলের আইনপ্রণেতা আন্দ্রে জানোনেসের সঙ্গে ইউটিউব লাইভে অংশ নিয়ে লুলা বলেন, ‘সে অপয়া। তার কারণেই ট্রাম্প হেরেছেন। সে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরই ট্রাম্প হেরে গেলেন।’ ব্রাজিলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তার এ বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে।
গত ২৫ অক্টোবর, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায়, লুলার কাছে পরাজিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ফ্লাভিও বলসোনারো। ওই নির্বাচনে জয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন লুলা।
ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের একজন সিনেটর এবং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি মিয়ামিতে যান। এ সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও কর ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত চলছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন লুলা। তার অভিযোগ, আইনি জটিলতা এড়াতে এবং সুরক্ষা পেতে দেশ ছেড়েছেন তার সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে ব্রাজিলে ফিরতে হবে এবং চলমান মামলাগুলোর মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ব্রাজিলের সংবাদ সংস্থা এজেন্সিয়া এস্তাদোর বরাতে লুলার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, ‘সে সেখানে সুরক্ষা পাওয়ার আশায় গেছে। দেখা যাক, কী ধরনের সুরক্ষা সে পায়। তোমার বিরুদ্ধে যেসব আইনি মামলা রয়েছে, সেগুলোর মুখোমুখি হতে তোমাকে ব্রাজিলে ফিরতেই হবে।’
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর লুলার এ মন্তব্য সামনে আসে। ওই নির্বাচনে, ডেমোক্র্যাটরা, কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খায়।
এদিকে, ব্রাজিলের নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।