‘জনপ্রতিনিধি মানেই চোর-চোট্টা, নিজের পকেট ভরেন’—গত ১৭-১৮ বছরে জনগণের মধ্যে গড়ে ওঠা এই নেতিবাচক ধারণা বদলে দিতে সরকারি বরাদ্দে দুর্নীতি বন্ধ করে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। তিনি বলেন, প্রকৃত দুস্থ মানুষ যেন সুবিধাবঞ্চিত না হয়।
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোরের লালপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকে জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কে জনগণের মাঝে একটি অত্যন্ত বাজে মানসিকতা তৈরি হয়েছে। অতীতকে ‘ডেড ফ্যাক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এখন আর আগের অনিয়ম চলবে না। সরকারি প্রতিটি বরাদ্দের সুফল স্বচ্ছতার মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে। পরবর্তীতে যেকোনো সরকারি বরাদ্দ এলে ইউএনওর কাছে জমা পড়া আবেদনসমূহ সরেজমিনে গিয়ে ভেরিফাই করার নির্দেশ দেন তিনি। এতে দুই মাস সময় বেশি লাগলেও প্রকৃত দুস্থ মানুষ যেন সুবিধাবঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে সন্ত্রাস দমন বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, চরাঞ্চলের অপরাধ দমনে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত ও যৌথ অভিযানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। স্থলভাগের পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অপরাধীরা গা-ঢাকা দেওয়ায় নৌ পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়ে সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটিকে তাঁর প্রাথমিক অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত দিনের জম জমে থাকা অনিয়ম, অভাব ও দুর্নীতি মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে।
লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা সভার আগে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল নাটোর জেলা যুব কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে কার্যক্রম তদারকি করেন এবং পরবর্তীতে লালপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।