২০২৬-২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর রোববার (১৪ জুন) প্রথম দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন হয়েছে। ঘোষিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ না থাকলেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়ে যাওয়ায় শক্তিশালী উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের বড়ধরনের উল্লম্ফনের ফলে প্রধান সূচক গত প্রায় ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ এবং লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদের ওপর কর দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা থাকার পরও বাজারে সূচক ও লেনদেনের ধারাবাহিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে মাঝে মধ্যে সূচকে সাময়িক সংশোধন এলেও তা স্বাভাবিক বাজার আচরণের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের পর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাদের আশা, সামনের দিনগুলোতেও এ ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, রোববার সকালে ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে শুরুর পর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১০৪ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬২৫ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। এটি গত প্রায় ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ৬২৭ দশমিক ৫৯ পয়েন্ট।
অন্য দুই সূচকের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১৪ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২৯ দশমিক ০০ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসই-৩০ বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট এবং দিনশেষে এর অবস্থান দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১১৯ দশমিক ৮০ পয়েন্টে।
ডিএসইতে এদিন মোট ৩৯২টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৬টির দর কমেছে এবং ৫০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দিনভর ডিএসইতে প্রায় ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ১ হাজার ২৩৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে একদিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১১৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) উত্থানমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এদিন সিএসইতে মোট ২৪ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৩৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকার।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে ৭১টির দর কমেছে এবং ৩৪টির দরে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সূচকের দিক থেকেও ইতিবাচক অবস্থানে ছিল সিএসই। বাজারটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৬৪ দশমিক ৫১ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৩৬০ দশমিক ২২ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। উল্লেখ্য, আগের কার্যদিবসে এই সূচক ৪৮ দশমিক ৫০ পয়েন্ট কমেছিল।
সব মিলিয়ে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দেশের উভয় পুঁজিবাজারেই সূচক ও অধিকাংশ শেয়ারের দর বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশেষ করে ডিএসইর প্রধান সূচকের ৯ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানো বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এসএন/কে