রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় একটি পাটক্ষেত থেকে মো. আসাদুজ্জামান (২৪) নামে এক যুবকের হাত-পা বাঁধা ও অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে অন্য কোথাও হত্যা করার পর প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আজ সোমবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলার মদাপুর ইউনিয়নের একটি পাটক্ষেত থেকে নিথর এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আসাদুজ্জামান উপজেলার বিল মানুষমারি গ্রামের শাহজাহান মন্ডলের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন আসাদুজ্জামান। রাত ৮টার দিকে তিনি সৌদি প্রবাসী এক দুলাভাইয়ের কাছে ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে পাঁচ হাজার টাকা প্রয়োজন বলে জানান। ওই ফোনালাপের পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্বজনেরা রাতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
আজ সোমবার সকালে স্থানীয় কৃষকেরা মাঠে কাজ করতে গিয়ে পাটক্ষেতের ভেতর হাত-পা বাঁধা ও পোড়া একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের খবর দেন। পরে কালুখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, দুর্বৃত্তরা আসাদুজ্জামানকে হত্যা করার পর মরদেহ উপুড় করে শুইয়ে পিঠের অংশে আগুনে ঝলসে দেয়। তবে কী কারণে বা কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পাংশা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) দেবব্রত কুমার সরকার বলেন, হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে। দ্রুতই আসামিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।