নাহিদ কতদিনের জন্য মাঠের বাইরে?

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম এখন নাহিদ রানা। জিম্বাবুয়ে সফরে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই তরুণ পেসার চোটে পড়ে অন্তত আট সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। তার সঙ্গে শরিফুল ইসলামের ফিটনেস নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। তাইতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজকে সামনে রেখে পেস আক্রমণের পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)।

বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, নাহিদের চোটের মাত্রা গ্রেড-২। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাঁ পাশের পেশিতে টান লাগার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা ধরা পড়ে। অন্তত এক মাস বিশ্রামে থাকার পর পুনর্বাসন শুরু করতে পারবেন ২৩ বছর বয়সী এই গতিতারকা। ফলে আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তার খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।

জিম্বাবুয়ে সফরটা অবশ্য দারুণভাবেই শুরু করেছিলেন নাহিদ। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ২.৩ ওভার বল করার পরই ব্যথা অনুভব করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এর আগে ১৫ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। সেই চোটের কারণেই সিরিজের শেষ ম্যাচেও খেলতে পারেননি।

নাহিদের ইনজুরি নিয়ে ক্রিকেটাঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, এই চোট কি এড়ানো সম্ভব ছিল? তবে বিসিবি বলছে, তাকে পরিকল্পনা অনুযায়ীই ব্যবহার করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের দাবি, পেসারদের ওয়ার্কলোড ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি ছিল না।

বাশার বলেন, ‘পেস বোলাররা বোলিংয়ের পর চোটে পড়বে। এটা খেলারই একটা অংশ। কিন্তু এটা দুর্ভাগ্যজনক যদি সে চোটে পড়ে যায়, যদি খেলতে না পারে, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা সবরকম চিন্তাভাবনা করেই কিন্তু এগিয়েছিলাম। যে কারণে আমরা তাকে টেস্টে খেলাইনি। ওয়ানডেতেও সব খেলাইনি। টি-টোয়েন্টিও হয়তো দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির পর তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে খেলত না।’

জিম্বাবুয়ে সফরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে নাহিদকে পুরো সিরিজ খেলানো হয়নি বলেও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধান নির্বাচক। তিন ওয়ানডের মধ্যে দুটি এবং তিন টি-টোয়েন্টির মধ্যে দুটি ম্যাচেই তাকে মাঠে নামানো হয়েছিল। তার মতে, চোটের লক্ষণ আগে থেকেই তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘নাহিদ রানা কিন্তু ৩ ওয়ানডের দুইটা খেলেছে, একটাতে খেলেনি। একটা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়ে চোটে পড়েছে। আমার মনে হয় যে তার চোট হয়তো আগেই দেখা দিয়েছিল। এটা এখানে না হলে টেস্ট ম্যাচে হয়ে যেত। তো আমরা কিন্তু যথেষ্ট ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করি এবং আমাদের যারা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট করে ফাস্ট বোলারদের, তাদের কিন্তু একটা বড় বিল্ডআপ করার ব্যাপার থাকে।’

আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টেস্ট বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় এই সিরিজকে ঘিরেই পরিকল্পনা সাজিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। বিসিবির দাবি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে নাহিদকে না খেলানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল এই সিরিজকে মাথায় রেখেই।

হাবিবুল বাশার বলেন, ‘আমার কাছে এটা নিছকই একটা দুর্ঘটনা। নাহিদ রানা, তাসকিন-যারা টেস্টে আমাদের নিয়মিত বোলার, শরীফুল, যেহেতু আমাদের সামনের যে টেস্ট সিরিজটা আছে সেটা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, সেটাকে কিন্তু আমরা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছি। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচটা অতটা প্রাধান্য দিইনি।’

নাহিদের পাশাপাশি শরিফুল ইসলামের চোটও বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যার কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট মিস করতে পারেন। অন্যদিকে ইনজুরি কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাসের ফেরার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। তবে পেস বিভাগে অনিশ্চয়তা থাকায় অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দল ঘোষণাও পিছিয়ে দিতে হয়েছে বিসিবিকে। ইবাদত হোসেন পিতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় তার প্রাপ্যতাও এখন ভিসা ও পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।

আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট শুরু ২২ আগস্ট থেকে।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *