নাহিদ ইতিহাসের অংশ : ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় তিন সপ্তাহে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল এক হাজার ৪০০ মানুষকে। সেই অভ্যুত্থানে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি নিতান্তই কোনো ব্যক্তি নন জীবন্ত ইতিহাস।

আজ রোববার (২৬ জুন) সাভারের জিরাবো সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে দর্শক মঞ্চ থেকে নাহিদ ইসলামকে ডেকে নিয়ে উপস্থিত অতিথিদের সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ কথা বলেন।

সাভারের জিরাবো সামাজিক কনভেনশন সেন্টারে ইউনূস সেন্টার এবং গ্রামীণ গ্রুপ যৌথভাবে আয়োজন করে এই ১৬তম সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন।

সামাজিক ব্যবসা সম্মেলন অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

একপর্যায়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস সকলকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর আহ্বান জানালে অতিথিরা করতালি দিয়ে নাহিদকে সম্মান ও স্বাগত জানান।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তরবর্তী সরকার গঠনের পর নাহিদ ইসলাম সরকারের অংশীজন ছিলেন। হয়েছিলেন উপদেষ্টা এবং ওই সরকারের মাঝামাঝি সময় তিনি পদত্যাগ করে এনসিপি নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। আজকে তিনি সেই দলের নেতা এবং দলটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদে আটটি আসন পেয়েছে। পাশাপাশিজাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অঙ্গীকার নতুন বাংলাদেশ গড়া। যেহেতু সে ইতিহাসের অংশ তাই আপনারা যে কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে পারেন এবং ছবিও তুলতে পারেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে শুরু করে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকার কথা আমরা সবাই জানি। আমি এখানে এসেছি তাকে স্বাগত জানাতে।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মতো অভিভাবককে আমরা নেতা হিসেবে পেয়েছিলাম। আমরা যারা জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলাম তারা ছাড়াও সাধারণ জনতা ও দেশবাসী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনুসের প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে বহন করেছেন। তিনি নতুন প্রজন্মকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। যারা জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছিল এবং যাদের আত্মত্যাগ রয়েছে তাদেরকে তিনি গাইড করেছেন। জুলাই চেতনায় আমরা জাতিকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করছি।

সোশ্যাল বিজনেস ডে উপলক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশ নিয়েছেন প্রায় দেড় হাজার অংশগ্রহণকারী। বিশ্বের ৩৭টি দেশ থেকে ২১৯ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।

এ বছর সোশ্যাল বিজনেস ডের প্রতিপাদ্য হলো ‘সামাজিক ব্যবসা : একটি বিভক্ত বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভাষা’।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে পাঁচটি প্লেনারি সেশন এবং সাতটি ব্রেক আউট সেশন অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা, উপস্থাপনা ও ফোরামে উঠে আসে দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু রক্ষা আন্দোলন, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং তরুণদের ক্ষমতায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। 

সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংক ৫০ বছর এবং অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ২০ বছর পূর্তি উদযাপিত হয়েছে। বক্তারা সামাজিক ব্যবসার প্রসারে নতুনত্ব এবং উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ওপর জোর দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *