দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ বাড়ার পর কমল স্বর্ণের দাম

টানা ঊর্ধ্বগতির পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। প্রত্যাশার চেয়ে কম মার্কিন মূল্যস্ফীতি পরিসংখ্যানের প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত মুনাফা তুলে নিতে শুরু করায় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বর্ণের দর প্রায় ১ শতাংশ কমেছে। এর আগে মূল্যস্ফীতি কমার প্রভাবে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা হ্রাস পাওয়ায় অ-ফলনশীল এই ধাতুটির দাম বিশ্ববাজারে দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। খবর রয়টার্সের।

বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৩৭৩ দশমিক ২৯ ডলারে নেমে আসে। অথচ এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতে এটি প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে গত ৫ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল।

স্বাধীন বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান জানান, স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার পর বাজারে দ্রুত লাভ গুটিয়ে নেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। এতে স্বর্ণের দাম কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৩৮৭ ডলারের নিচে নেমে আসে। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নানা উত্তেজনার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন ডলারকে বেশি নিরাপদ মনে করছেন। ফলে সাময়িকভাবে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে।

বুধবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা দুই মাস মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের দাম বাড়ার গতি কমেছে। জুলাই মাসে হিসাব করে দেখা গেছে, এক বছরে মূল্যস্ফীতি কমে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে, যা জুন মাসে ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। পণ্যের দাম বাড়ার চাপ কমায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ আগামী সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার আর বাড়াবে না বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন মনে করছেন আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা মাত্র ৩৬ শতাংশ, যা এক সপ্তাহ আগেও ৫৫ শতাংশ ছিল। ব্যাংকে সুদের হার কম থাকলে বা না বাড়লে স্বর্ণের মতো জায়গায় বিনিয়োগ করাটা বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে।

শুধু স্বর্ণ নয়, বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। রুপার দাম প্রায় ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৪১ ডলারে নেমেছে। পাশাপাশি প্ল্যাটিনামের দাম প্রায় ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে এক হাজার ৭২২ দশমিক ৬৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে এক হাজার ৩৩৯ দশমিক ৮৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *