দুই মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর প্রিন্স মামুন

রাজধানীর ভাটারা থানায় করা পৃথক দুই মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুন জামিন পেয়েছেন।

আজ রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকার পৃথক দুই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ অদেশ দেন।

প্রিন্স মামুনের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, স্ত্রীকে মারধরের মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি মামুনের জামিনের আদেশ দেন। অন্যদিকে, ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যাচেষ্টার অভিযোগের মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম জামিনের আদেশ দেন।  

যৌতুকের মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, পাঁচ মাস আগে প্রিন্স মামুনের সঙ্গে মডেল মোহনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়ে আসছিল। প্রিন্স মামুন বিভিন্ন বয়স্ক নারীদের সঙ্গে পরকীয়ায় লিপ্ত এবং নেশায় আসক্ত রয়েছেন। মোহনা কিছু জিজ্ঞাসা করলেই তাকে মারধর করেন মামুন। বিয়ের পর থেকেই আসামি দোকান দেওয়ার জন্য মোহনার কাছে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন। তবে টাকা দিতে অস্বীকার করলে মোহনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে মামুন। এরই ধারাবাহিকতায় ভাটারার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোহনার বাসায় মামুন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এসে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি করেন।

এজাহার থেকে আরও জানা গেছে, মোহনাকে তার বাবার বাড়ি থেকে এই টাকা এনে দিতে বলেন প্রিন্স মামুন। তবে মোহনা অস্বীকৃতি জানালে, তার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মামুন উত্তেজিত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করাসহ এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। মারধরের সময় তার গলা চেপে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে মামুন। এতে তার বাম চোখের নিচে রক্তাক্ত জখম হয় এবং ডান কানে জখম হয়। এ ছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে আহত করা হয়।

আত্মহত্যার চেষ্টার মামলা থেকে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই দিনগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ই-ব্লকের ১১ নম্বর রোডের বাসায় প্রিন্স মামুন ফেসবুক লাইভে আসেন। লাইভে বেডরুমের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মোহনার ব্যবহৃত শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করবেন এবং বাদী ও তার পরিবার দায়ী থাকবে, এসব কথা বলতে থাকেন। লাইভ দেখে বাদী দ্রুত আসামির বাসায় গিয়ে দেখতে পান, প্রিন্স মামুন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে শাড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন এবং চিৎকার করে বলছেন, তোমরা রুম থেকে বের হয়ে যাও, আমি এখন সুইসাইড করব।

পরবর্তীতে মোহনার মা তার ধর্মভাই আব্দুল মোমিন ও লিখন এবং আসামির বাবা-মায়ের সহযোগিতায় মামুনকে উদ্ধার করে পুলিশি সহায়তায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর ভাটারা থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়। মামলার পরে প্রিন্স মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *