কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অভিযানে বিপুল মাদকদ্রব্য জব্দ ও দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে র্যাব-৭ এর মিডিয়া বিভাগের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব জানতে পারে চৌদ্দগ্রাম থেকে চট্টগ্রামগামী “নিউ দাউদকান্দি এক্সপ্রেস” পরিবহণের একটি বাসে যাত্রীবেশে বিপুল গাঁজা বহন করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে র্যাব-৭ এর একটি দল ফেনী সদর থানাধীন ফতেহপুর এলাকার স্টার লাইন ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন ইমাম মার্কেটের সামনে মহাসড়কে একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায়। সন্দেহভাজন বাসটি থামিয়ে তল্লাশিকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার দীপ চরুতি গ্রামের সিনথিয়া ইসলাম (২৭) ও কক্সবাজার সদর উপজেলার নুনিয়াছরা গ্রামের রাবিয়াকে (৪৫) আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছে থাকা লাগেজ থেকে স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৩ কেজি গাঁজা, এক বোতল বিদেশি মদ ও ছয় বোতল বিয়ার জব্দ করা হয়।
আটক দুই নারীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায়, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার গোমারবাড়ি পূর্বপাড়া এলাকায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিপুল মাদকদ্রব্য কেনাবেচা হয় এবং তারা সেখান থেকেই এই গাঁজা সংগ্রহ করেছিল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব রাতেই চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার গোমারবাড়ি পূর্বপাড়ায় মজিবুল হক (২৯) এবং মো. সিয়ামের (২৫) বাড়িতে দ্বিতীয় দফায় ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। সেখান থেকে মজিবুল ও তার সহযোগী সিয়ামকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেখানো তথ্যমতে, বাড়ির গোয়ালঘর থেকে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা আরও ২৭৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে র্যাব-৭ এর মিডিয়া বিভাগের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, মাদক নির্মূলে র্যাব জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অভিযান দুটি পরিচালনা করে আমরা প্রায় ৩০০ কেজি গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। মাদক একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং এটি শুধু একক কোনো বাহিনীর মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এর জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। তারা তাদের দায়িত্বের জায়গা থেকে কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে বিন্দুমাত্রও ছাড় দেবেন না এবং আটকদের বিরুদ্ধে মমলা করা হয়েছে।