যুক্তরাজ্যের নর্দার্ন ইংল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বড় জয় পেয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এই জয়ের মধ্যদিয়ে তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার অবস্থানে পৌঁছে গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) ভোরে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, লেবার পার্টির প্রার্থী বার্নহ্যাম ২৪ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকে-এর প্রার্থী রবার্ট কেনিয়নকে ৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
নির্বাচনে রিস্টোর ব্রিটেন দলের প্রার্থী রেবেকা শেফার্ড তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কনজারভেটিভ পার্টির মাইকেল উইনস্ট্যানলি, গ্রিন পার্টির সারা ওয়েকফিল্ড এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটসের জেক অস্টিন।
জয়ের পর দেওয়া ভাষণে বার্নহ্যাম বলেন, ‘সবাই জানে বর্তমান রাজনীতি ঠিকমতো কাজ করছে না। মানুষ অনুভব করছে দেশ যে অবস্থায় থাকার কথা, সেখানে নেই। আজকের রাত হয়তো সেই পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যাতে মেকারফিল্ড দেশের প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে।’
এই বিজয় লেবার পার্টির ভেতরে নতুন নেতৃত্বের লড়াইয়ের পথ খুলে দিতে পারে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, এতে হয় স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়বে, নয়তো তার সঙ্গে বার্নহ্যাম এবং সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যরা নতুন নেতা নির্বাচন করলে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে পারেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক জরিপে ২৫ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক বার্নহ্যামকে তাদের পছন্দের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই জরিপে স্টারমারের পক্ষে সমর্থন ছিল মাত্র ১২ শতাংশ।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় বিজয় এনে দিলেও স্টারমার সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গত মে মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে দলের বড় ধরনের ভরাডুবির পর তার পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়।
গত দুই বছরেরও কম সময়ে স্টারমারের সরকার থেকে ২০ জন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এদের অনেকেই তার নেতৃত্বের প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করেছেন অথবা নীতিগত বিষয়ে বিরোধে জড়িয়েছেন। তবে স্টারমার পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছেন, তিনি নেতৃত্ব ধরে রাখতে লড়াই করবেন এবং এ ধরনের প্রতিযোগিতা দেশের জন্য ভালো হবে না।
স্টারমারকে সরাতে চাপ দেবে মন্ত্রিসভা
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানাতে আজ শুক্রবার বিকেলে তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা চাপ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের বিজয়ের পর মন্ত্রিসভার সদস্যরা স্টারমারকে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানাবেন।
এদিকে স্টারমার আজ মন্ত্রিসভার সদস্য এবং লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের সঙ্গে ফোনালাপ ও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে বহাল থাকার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, কয়েকজন মন্ত্রিসভা সদস্য এসব আলোচনার সুযোগে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানাতে পারেন।
অন্যদিকে বার্নহামের সমর্থকেরা লেবার পার্টির সংসদ সদস্যদের সমর্থন আদায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের লক্ষ্য ২০০ জন এমপির সমর্থন নিশ্চিত করা, যা হাউস অব কমন্সে লেবার সদস্যদের প্রায় অর্ধেকের প্রতিনিধিত্ব করে।
বার্নহামের ঘনিষ্ঠদের বিশ্বাস, এত বড় সমর্থন জোগাড় হলে স্টারমারের পক্ষে নেতৃত্ব ধরে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। এছাড়া নতুন মেকারফিল্ড এমপি বার্নহাম ইতোমধ্যে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় ৮১ জন সমর্থকের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।