কোনো সরকার দুই মাসে এতটা অজনপ্রিয় হয়নি : নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কিনা তা আমার জানা নেই। আমরা জানি না আগামী ছয় মাসে তাদের কী পরিণতি হবে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের জাতীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে সারাদেশ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাইয়ের আহত কয়েক হাজার যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছে, বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনগণ প্রতিজ্ঞা করেছিল এদেশে আর কখনো স্বৈরতন্ত্র ফেরত আসতে দেওয়া হবে না। এজন্য দেশে সংস্কারের কার্যক্রম শুরু হয়। ৫ তারিখের পর থেকেই প্রতি পদে পদে বিএনপি সংস্কারে বাধা দিয়ে এসেছে। একটা পর্যায়ে তারা ঐকমত্য কমিশনে আসে। কিন্তু ঐকমত্য কমিশনে এসেও তারা প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করে অসম্মতি জানিয়ে এসেছে। 

জনগণের গণভোটে রাজি হলেও নির্বাচনের পরপরই বিএনপি গণভোটকে অস্বীকার করতে শুরু করেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যে বিএনপির জন্ম হয়েছিল গণভোটের মাধ্যমে সেই বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের পরে গণভোটকে অস্বীকার করছে। এর মাধ্যমেই বিএনপি মূলত তার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করতে শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগের পথে হাঁটলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই বাংলাদেশের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে বিএনপি যে নতুন করে দলীয়করণ করছে, এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পথেই বিএনপি বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি যদি আওয়ামী লীগের পথে, পুরনো স্বৈরাচারের পথে এ দেশকে নিয়ে যেতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আবারও রুখে দাঁড়াবে। এদেশের তরুণ সমাজ আবারও রুখে দাঁড়াবে। গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড কৃষক কার্ড দিয়ে জনগণকে ভোলানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু এই কার্ড দিতে দিতে তাদের জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে, তেল ফুরিয়ে গেছে। অথচ মন্ত্রীরা সংসদে বলছে কোনো জ্বালানি সংকট নাই। বাস্তব সমস্যাকে অস্বীকার করছে, অর্থনৈতিক সমস্যাকে অস্বীকার করছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে সেটাকে অস্বীকার করছে। আমরা সর্বাত্মকভাবে এ সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিলাম, দেশের স্বার্থে জনগণের স্বার্থে। কিন্তু সরকার সহযোগিতা নেওয়ার সকল দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, আমার জানা নেই, যারা মুরুব্বি আছেন তারা বলতে পারবেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত কম সময়ে কোনো সরকার এতটা অজনপ্রিয় হয়েছিল কিনা। আমরা জানি না আগামী ছয় মাসে তাদের কী পরিণতি হবে। আমরা কোনো অস্থিতিশীলতা চাই না, আমাদের দাবি একটাই, গণভোটের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সম্মান দেওয়া, শহীদ পরিবারকে সম্মান দেওয়া। আমরা সেটার জন্য রাজপথে এবং সংসদে আছি। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা এই দাবি আদায় করে ছাড়বো, ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ এগারো দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *