কে এই নকুকা, মাঠের বাইরে কঙ্গোর সবচেয়ে পরিচিত মুখ

ফুটবল মাঠে নায়ক হয়ে ওঠেন অনেকেই। তবে কখনও কখনও গ্যালারির কোনো সমর্থকও কাড়েন সমান মনোযোগ। ডিআর কঙ্গোর মিশেল নকুকা তেমনই একজন। ‘লিভিং স্ট্যাচু’ নামে পরিচিত এই সমর্থক তার অভিনব উপস্থিতির কারণে এখন বিশ্ব ফুটবলেরও পরিচিত মুখ।

দেশের খেলা দেখতে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছুটে যান নকুকা। কিন্তু তাকে আলাদা করে চিনিয়েছে তার সমর্থন জানানোর ভঙ্গি। দর্শক সারিতে একটি উঁচু প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রায় নিস্পন্দ থাকেন। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, যেন কোনো ভাস্কর্য দাঁড়িয়ে আছে গ্যালারির মাঝখানে।

২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো এই অভিনব রূপে দেখা যায় তাকে। এরপর থেকে ডিআর কঙ্গোর বড় টুর্নামেন্ট বা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিয়মিত উপস্থিতি দেখা গেছে নকুকার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি হয়ে উঠেছেন দেশের ফুটবল সমর্থকদের অন্যতম পরিচিত মুখ।

নকুকার পোশাকেও থাকে বিশেষ বার্তা। বেশিরভাগ সময় তিনি কঙ্গোর জাতীয় পতাকার রঙে নিজেকে সাজান। নীল, লাল ও হলুদের সেই সমন্বয় যেন দেশের প্রতি তার ভালোবাসার দৃশ্যমান প্রকাশ।

তবে ‘লিভিং স্ট্যাচু’ পরিচয়ের পেছনে আছে আরও গভীর একটি গল্প। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে নকুকা জানিয়েছেন, তার এই চরিত্রটি কঙ্গোর স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তৈরি করেছেন তিনি।

লুমুম্বা স্বাধীন কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে ১৯৬১ সালে তাকে হত্যা করা হয়। কঙ্গোর মানুষের কাছে তিনি এখনও জাতীয় বীর হিসেবে স্মরণীয়। রাজধানী কিনশাসায় তার স্মরণে একটি ভাস্কর্যও রয়েছে। তার বিশ্বাস, এই নীরব উপস্থিতি ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়ে কঙ্গোর সংগ্রামী অতীত ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি পরিচিতি পান নকুকা। ডিআর কঙ্গোর ম্যাচগুলোতে তার উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে আলজেরিয়ার বিপক্ষে এক নাটকীয় ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১১৯তম মিনিটে গোল হজমের পর হতাশায় তার মাটিতে লুটিয়ে পড়ার দৃশ্য মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

কলম্বিয়ার বিপক্ষেও গ্যালারিতে দেখা গেছে সেই পরিচিত অবয়বকে। ম্যাচের ফল যা-ই হোক, একটি বিষয় প্রায় নিশ্চিত— শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত নিজের জায়গায় অবিচল থাকেন মিশেল নকুকা। তার কাছে সমর্থন হলো এমন এক অনুভূতি। যেখানে হতাশার মাঝেও বিশ্বাস টিকে থাকে। আর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা নিভে যেতে দেওয়া হয় না।

তাই মিশেল নকুকা শুধু গ্যালারির একজন সমর্থক হয়ে থাকেননি। নিজের অনন্য উপস্থিতিতে তিনি হয়ে উঠেছেন ডিআর কঙ্গোর ফুটবলের অন্যতম পরিচয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *