কানে করতালিতে ভাসলেন আসগর ফারহাদি, মুখ খুললেন ইরান যুদ্ধ নিয়ে

বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব-এ এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানি নির্মাতা ও দুইবার অস্কারজয়ী পরিচালক আসগর ফারহাদি। নিজের নতুন চলচ্চিত্র ‘প্যারালেল টেলস’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার পাশাপাশি তিনি ইরানের যুদ্ধ, বিক্ষোভ ও সহিংসতা নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন, যা উৎসবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফারহাদি জানান, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সহিংসতার ফলে নিরীহ মানুষের মৃত্যু তিনি গভীরভাবে অনুভব করেন। তিনি জানান, যুদ্ধের কারণে অনেক নিরীহ মানুষ, শিশু এবং সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। একইভাবে, যুদ্ধের আগেও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক মানুষ নিহত হয়েছে, যারা প্রত্যেকেই নির্দোষ ছিলেন।

তিনি বলেন,“এই দুই ধরনের ঘটনাই অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং কখনোই ভোলার নয়।”

ফারহাদি আরও উল্লেখ করেন ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথাও এবং সেখানকার ভুক্তভোগীদের প্রতিও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তার মতে, কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা মানেই অন্য ঘটনার প্রতি সহানুভূতিহীন হওয়া নয়।

তিনি বলেন, “নিরীহ মানুষের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করা মানে এই নয় যে আপনি বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড বা হত্যার পক্ষে। একইভাবে, বিক্ষোভে নিহতদের প্রতি সহানুভূতি মানে এই নয় যে আপনি বোমা হামলায় নিহতদের দুঃখকে অস্বীকার করছেন।”

সবশেষে তিনি বলেন, “যেকোনো হত্যাই অপরাধ। কোনো পরিস্থিতিতেই আমি মেনে নিতে পারি না যে একজন মানুষ অন্য মানুষের জীবন কেড়ে নেবে—তা যুদ্ধ হোক, মৃত্যুদণ্ড হোক বা বিক্ষোভকারীদের গণহত্যা হোক। এটি অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও মর্মান্তিক যে আজও আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে প্রতিদিনই কোনো না কোনো নিরীহ মানুষের মৃত্যুর খবর শুনতে হয়।”

আসগর ফারহাদির এই বক্তব্য কানে উপস্থিত সাংবাদিক, সমালোচক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, তার এই অবস্থান যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

অন্যদিকে, উৎসবে বৃহস্পতিবার রাতে প্রিমিয়ার হওয়া ‘প্যারালেল টেলস’ প্রদর্শনের পর ফারহাদি ও তার ফরাসি তারকাদের জন্য টানা সাড়ে পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে করতালি দেন দর্শকরা। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন ইজাবেল হুপার, ভার্জিনি এফিরা, ভাঁসাঁ ক্যাসেল, অ্যাডাম বেসা, পিয়ের নিনি ও ক্যাথরিন দ্যনুভ।

ছবির কাহিনিতে সিলভি (হুপার) একজন লেখিকা, যিনি নতুন উপন্যাসের অনুপ্রেরণার জন্য রাস্তার ওপারে থাকা প্রতিবেশীদের গোপনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তিনি তরুণ অ্যাডামকে (বেসা) তার দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করার জন্য নিয়োগ দেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক ধীরে ধীরে তার জীবন ও লেখালেখিকে উল্টে দেয়, যেখানে কল্পনা বাস্তবতাকে ছাড়িয়ে যায়।

এসএন/পিডিকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *