কঙ্গোতে ইবোলা মহামারি জ্যামিতিক হারে বাড়ছে : জাতিসংঘ

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) প্রাদুর্ভাব ঘটা ইবোলা মহামারি ‘জ্যামিতিক হারে’ বাড়ছে। এ পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেক মৃত্যুই ঘটেছে শেষ ২০ দিনে। জাতিসংঘের শীর্ষ ইবোলা সমন্বয়কারী শুক্রবার (২১ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

এই ইবোলা প্রাদুর্ভাবটি ইতোমধ্যেই দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং রেকর্ডকৃত যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়াচ্ছে।

জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্রবিন্দু ‘বুনিয়া’ থেকে যুক্ত হয়ে সমন্বয়কারী জুলিয়েন হার্নিস জানান, সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাব জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।

জুলিয়েন হার্নিস বলেন, গত তিন মাসে আড়াই হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে এবং এর অর্ধেক মৃত্যুই ঘটেছে গত ২০ দিনে। মহামারিটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি এখন এমন একটি এলাকা জুড়ে ছেয়ে গেছে যা আয়তনে ফ্রান্সের চেয়েও বড়। ইবোলা মোকাবিলার যে প্রস্তুতি, তার চেয়েও দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে এটি ছড়িয়ে পড়ছে।

গত ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়া হলেও, ধারণা করা হচ্ছে যে ততদিনে এটি বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে ছড়াচ্ছিল।

মহামারিটি দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে আঘাত হেনেছে—যেখানে সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো দুর্বল ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো চরমভাবে পিছিয়ে রয়েছে এবং বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী কয়েক দশক ধরে সক্রিয় রয়েছে। 

সংকট মোকাবিলায় তৎপরতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে জাতিসংঘের ইবোলা সমন্বয়কারী জুলিয়েন হার্নিস বলেন, ‘আমরা যদি আরও কর্মী নিয়োগ করতে পারি এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত সম্পদ পৌঁছাতে পারি, তবে কয়েক মাসের মধ্যেই ভাইরাসের সংক্রমণ ধীর করে তা সম্পূর্ণ বন্ধের দিকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

জুলিয়েন হার্নিস সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আমরা তা না করতে পারি, তবে এই মহামারি আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে। এটি আরও বড় এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *