ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে হওয়া চুক্তির মাধ্যমে আগামী ৬০ দিনের জন্য একটি আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। এ সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। খবর এএফপির।

তবে শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ও নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন থাকা দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে গেলেও কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে এখনও স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি শুরু হয়নি। যুদ্ধ চলাকালে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে কার্যত অবরোধ আরোপ করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী এটি দ্রুত খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর তাদের আরোপিত নৌ অবরোধ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অঞ্চলটিতে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।

সামুদ্রিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে উপসাগর ত্যাগ করেছে। এছাড়া ‘এমরাইক’ নামের একটি ফরাসি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো এই পথ ব্যবহার করেছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে অন্তত ১২টি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তিনি বলেন, শুক্রবারের পরিবর্তে সপ্তাহান্তে তিনি সুইজারল্যান্ডে ইরানের সঙ্গে ‘কারিগরি আলোচনা’ করতে যেতে পারেন, যদিও পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, সুইজারল্যান্ডে ইরানি প্রতিনিধিদলের সফর নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করত বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক সাময়িকী লয়েডস লিস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *