কোরবানির ঈদ সামনে রেখে অ্যাগ্রো খামার থেকে আটটি গরু নিয়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে মির্জা আবুল বাশার মামুন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে মামলা রয়েছে।
আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে রাজধানীর গুলশান-২ এর ২৮ নম্বর রোডের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গতকাল শুক্রবার রাত থেকেই আবুল বাশারের বাসা ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শনিবার সকালে ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে বাথরুমের পেছনে বিশেষভাবে নির্মিত একটি গোপন সিলিংয়ে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়।
ডিএমপির গুলশান বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের থানায় একটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া আবুল বাশারের বিরুদ্ধে প্রতারণার বহু অভিযোগ রয়েছে। বাসায় তার সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায়। গোপন সিলিংয়ে লুকিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকদিন ধরে মামুনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। ডিএমপির মিডিয়া সেল থেকে সংবাদ সম্মেলন করে আমরা বিস্তারিত জানাব।
২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রতারণার অভিযোগে আবুল বাশারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম আউলিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা মির্জা আবুল বাশার ওরফে মামুন স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত একটি নাম। তিনি নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
মামুনের বিরুদ্ধে জমি বরাদ্দ, চাল ও তেলের ডিলারশিপ, ব্যবসায়িক সুযোগ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের আশ্বাস দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সেনাবাহিনী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন। অনেকে ভবিষ্যতের আশায় জমিজমা বিক্রি করে কিংবা সঞ্চিত অর্থ তার হাতে তুলে দিয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া রাজধানীর বাড্ডা, খিলক্ষেত, বনানী, ভাটারাসহ বিভিন্ন থানায় মামুনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, কোরবানির ঈদের আগে তিনি একটি অ্যাগ্রো খামার থেকে আটটি গরু নিয়ে ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক দিলেও সেটি বাউন্স করে বলে অভিযোগ উঠেছে। তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অর্থ পরিশোধ না করা ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ বলছে, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।