নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণ, স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহ এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রতিবছর ১৪ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। দিবসটি স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের সম্মান জানানোর পাশাপাশি মানবিক সচেতনতা বৃদ্ধির একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
থ্যালাসেমিয়া, রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় ধরনের অস্ত্রোপচার ও সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিনিয়ত রক্তের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে রক্তের কোনো বিকল্প না থাকায় প্রয়োজন মেটাতে রক্তই দিতে হয়। এ কারণে নিরাপদ ও নিয়মিত রক্তদানের গুরুত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে।
এবারের বিশ্ব রক্তদাতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘One Drop of Humanity. Give Blood. Save Lives.’। বাংলায় যার ভাবার্থ, ‘প্রতি ফোঁটায় মানবতা, রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।’
দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, হাসপাতাল, রক্তদান সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠান রক্তদান ক্যাম্প, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে স্বেচ্ছা রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করছে। নতুন রক্তদাতা তৈরি এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও গুরুত্ব পাচ্ছে।
বাংলাদেশে বছরে আনুমানিক ১০ লাখের বেশি ইউনিট রক্তের প্রয়োজন হয়। তবে জনসংখ্যার তুলনায় এ চাহিদা খুব বেশি না হলেও দেশ এখনও স্বেচ্ছা রক্তদানে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারেনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাপক জনসচেতনতা এবং স্বেচ্ছা রক্তদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেই এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
দেশে রক্তের চাহিদা পূরণে কাজ করছে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এর মধ্যে রয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, সন্ধানী, বাঁধন এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লাড ল্যাবে গিয়ে রক্তদান করলে এক ইউনিট রক্তকে বিভিন্ন উপাদানে ভাগ করে একাধিক রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহার করা যায়। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তরুণদের রক্তদানে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রক্তের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এসএন / কে