অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় ফুটবল দল ‘সকারুস’-এর অনেক খেলোয়াড়ের বেড়ে ওঠা শুরু হয় স্থানীয় মাঠে, ১৯৯০ ও ২০০০ দশকে। ধাপে ধাপে তারা উন্নত অ্যাকাডেমি ও ট্যালেন্ট উন্নয়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়, যাকে ফুটবলে ‘ট্যালেন্ট পথ’ বলা হয়। তবে কিছু খেলোয়াড়ের জীবন এই সাধারণ কাঠামোর বাইরে শুরু হয়। যেখানে শুরুটা ছিল সংগ্রাম ও বাস্তব জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা দিয়ে।
মো টুরের বাবা-মা আমারা ও মাওয়া টুরে ১৯৮৯ সালে লাইবেরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। তারা পরিবারের সঙ্গে ১৮ দিন হেঁটে গিনির সীমান্তে পৌঁছান। সেই সময়ে খাবার ও নিরাপত্তা দুটোই ছিল অনিশ্চিত।
গিনিতে আমারা টুরে প্রায় ১৪ বছর শরণার্থী হিসেবে জীবন কাটান। শুরুতে জাতিসংঘের সহায়তা পেলেও জীবন ছিল সীমিত ও কঠিন। এই সময় ফুটবল তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে আমারা ও মাওয়া টুরে মানবিক ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসেন এবং অ্যাডিলেডের ক্রয়ডন এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এখানেই তাদের সন্তানরা বড় হতে থাকে।
মো টুরে ২০০৪ সালে মাত্র ৭ মাস বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় আসে। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি পরিবারের অতীত সংগ্রামের কথা জানতে পারেন। বাবা-মা সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের ফুটবলে এগিয়ে নিতে নিয়মিত অনুশীলনে নিয়ে যেতেন। অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতিতেও তারা সন্তানদের পাশে থাকতেন।
এই প্রচেষ্টার ফল হিসেবে মো টুরে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে ৯ নম্বর জার্সি পরে খেলছেন। তিনি বলেন, সকারুসের হয়ে খেলা তার জন্য বড় সুযোগ এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাই আল হাসান ও মুসাও পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত।
বর্তমানে সকারুস দলে চারজন খেলোয়াড় আছেন যাদের শরণার্থী পটভূমি রয়েছে—মো টুরে, নেস্টরি ইরানকুন্ডা, আওয়ার মাবিল এবং মিলোস ডেগেনেক। তারা দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন।
টুরে পরিবারের গল্প মূলত যুদ্ধ, শরণার্থী জীবন এবং পরে নতুন দেশে স্থায়ী হয়ে ফুটবলে সাফল্য পাওয়ার একটি বাস্তব উদাহরণ।