রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে এক নারী নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রোমানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি ড্রোনকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে ন্যাটোর বিমান টহল মিশনে থাকা স্প্যানিশ এফ-১৮ যুদ্ধবিমান।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে আজ রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ওই নারী নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হন বলে স্থানীয় গভর্নর জানিয়েছেন। খবর আল জাজিরার।
এদিকে শনিবার (১৫ আগস্ট) রাতে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এতে একজন আহত হয়েছেন এবং ওবোলনস্কি ও হলোসিভস্কি এলাকায় কয়েকটি অনাবাসিক স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করা একটি ড্রোনকে স্প্যানিশ এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের পাইলট গুলি করে ভূপাতিত করেন। বিমানটি রোমানিয়ায় ন্যাটোর এয়ার পুলিশিং মিশনের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল।
চলতি বছরে রোমানিয়ার আকাশসীমায় এটি চতুর্থ ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা। তবে ড্রোনটির উৎস সম্পর্কে রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু জানায়নি।
রোমানিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ৬৩৪ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। রাশিয়ার হামলা জোরদার হওয়ার পর দেশটির আকাশসীমায় একাধিকবার রুশ ড্রোন প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে।
২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া প্রায় প্রতিদিন ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের প্রভাব কৃষ্ণসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও ছড়িয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ইউক্রেনে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে অন্তত ৪৩৭ জন নিহত ও ২ হাজার ৬১০ জন আহত হন।
অন্যদিকে রোববার রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইউক্রেন থেকে মস্কোমুখী ১০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনজন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনও এখন রাশিয়ার গভীরে সামরিক, শিল্প ও লজিস্টিক স্থাপনায় হামলা বাড়িয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়ার অব্যাহত হামলার জবাব হিসেবেই এসব পাল্টা হামলা চালানো হচ্ছে।