একটি প্রস্তুতি ম্যাচ কখনোই একটি টেস্ট সিরিজের ভবিষ্যৎ বলে দেয় না! কিন্তু কিছু প্রস্তুতি ম্যাচ থাকে, যেগুলো আয়নার মতো দলের দুর্বলতাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে ম্যাচটি ঠিক তেমনই একটি আয়না হয়ে এসেছে।
ডারউইনে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে আজ বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ও ৩৮ রানে। ফলাফলের চেয়েও বড় হয়ে সামনে এসেছে পরাজয়ের ধরন। প্রথম ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত সেঞ্চুরি কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটিং এমনভাবে ভেঙে পড়েছে যে, ৫৪ রানেই শেষ হয়ে গেছে পুরো ইনিংস!
আর এই ধস এসেছে এমন এক দলের বিপক্ষে, যাদের বেশির ভাগ ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা নেই। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশে ছিলেন মাত্র দুজন টেস্ট ক্রিকেটার। বোলিং আক্রমণেও ছিলেন অনভিজ্ঞরা। বাংলাদেশকে ২৫ রানে ৮ উইকেট নিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া ক্যাম্পবেল থমসন তো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ!
তাই ম্যাচের স্কোরকার্ডে শুধু একটি হার লেখা থাকলেও বাংলাদেশের জন্য এর ভেতরে লুকিয়ে আছে আরও বড় প্রশ্ন। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট বোলিং আক্রমণের সামনে এই ব্যাটিং লাইনআপ কতটা সামলাতে পারবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগ!
প্রধান কোচ ফিল সিমন্সও সমস্যাটা এড়িয়ে যাননি। বরং প্রস্তুতি ম্যাচ শেষে ব্যাটারদের আউট হওয়ার ধরন নিয়েই সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, ‘তিন দিন আমরা পেয়েছিলাম, বেশ ভালো কিছু কাজ হয়েছে আমাদের। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাট হাতে আমরা নিজেদের হতাশ করেছি। যদি খেয়াল করে দেখেন যেভাবে আমরা আউট হয়েছি, ভালো কিছু ছিল না।’
তবে সিমন্সের কথায় আতঙ্কের চেয়ে বেশি রয়েছে সংশোধনের তাগিদ। প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতার পরও বাংলাদেশকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সময় আছে বলে মনে করছেন তিনি। মূল টেস্টের আগে হাতে থাকা তিনটি অনুশীলন সেশনকে তাই কাজে লাগাতে চান টাইগার কোচ, ‘আমাদের হাতে এখনও ৩ দিন সময় আছে এখানের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে মূল ম্যাচে সব ঠিকভাবে করার। আমি বিশ্বাস করি, এই তিন দিনে আমরা নিজেদের নিয়ে কাজ করব, যেন টেস্ট ম্যাচে নিজেদের জন্য ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারি।’
ডারউনে আসার পর প্রথম তিন দিনের অনুশীলনে সিমন্স সন্তুষ্ট ছিলেন। কিন্তু মাঠের ক্রিকেট সেই সন্তুষ্টিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যাটিংয়ের ভুলগুলো এখন নতুন করে বিশ্লেষণ করতে হবে বাংলাদেশকে, ‘আমরা নিজেদের নিয়ে কাজ করার জন্য আরও ৩ দিন সময় পাচ্ছি, এই ব্যাপারটা ভালো। এখানে প্রস্তুতি ম্যাচে আমরা ব্যাটিংয়ে নিজেদের হতাশ করেছি। আমরা কীভাবে আউট হয়েছি, আপনারা দেখেছেন, যা একদমই ভালো ছিল না।’
তবু প্রস্তুতি ম্যাচের ফলকে আঁকড়ে পড়ে থাকতে রাজি নন বাংলাদেশ কোচ। তার কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে টেস্টে নিজেদের অন্য রূপে হাজির করা, ‘টেস্ট ম্যাচে যথাযথভাবে যা করতে হবে, তা নিয়ে কাজ করার জন্য তিনটি দিন আছে আমাদের। ছেলেদের ওপর আমার বিশ্বাস আছে, টেস্ট ম্যাচে আমরা যেখানে থাকতে চাই, সেটির জন্য আগামী তিন দিনে সেই কাজগুলো ওরা করবে। হতাশাজননক ম্যাচ, তবে আমরা সামনে তাকাচ্ছি এবং টেস্ট ম্যাচের অপেক্ষায় আছি।’
সিমন্সের শেষ কথাতেই আপাতত বাংলাদেশের স্বস্তি খুঁজতে হচ্ছে। কারণ প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে সামনে তাকানো ছাড়া আর কোনো পথও নেই। ১৩ আগস্ট ডারউনেই শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ। ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে শুরু সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছর পর ফিরে বাংলাদেশ যে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তার প্রথম প্রশ্নের উত্তর অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচেই দিয়ে ফেলেছে ব্যাটিং। এখন দেখার বিষয়, সেই ভুলের উত্তর খুঁজে পেতে সিমন্সের ‘তিন দিন’ কতটা কাজে লাগে!
এসএন/পিডিকে