বিশ্বমঞ্চে জেলেনস্কি-মেলোনির ‘অস্বস্তিকর’ মুহূর্ত ভাইরাল

ফ্রান্সের এভিয়ানে চলমান জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইন থেকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির একটি সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এই ক্লিপটিতে দাবি করা হচ্ছে—মেলোনিকে জোরপূর্বক চুম্বনের চেষ্টা করেছিলেন জেলেনস্কি। যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নানা মিম ও তীব্র বিতর্ক। তবে নিখুঁত ফ্রেম-বাই-ফ্রেম বিশ্লেষণ ও কূটনৈতিক প্রটোকল বলছে ভিন্ন কথা।

রুশ সংবাদমাধ্যম ‘আরটি নিউজ’সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমে প্রকাশিত সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে যোগ দিতে আসেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। সেখানে উপস্থিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে প্রথাগত ‘চিক কিস’ বা গালে গাল মিলিয়ে সৌজন্যমূলক অভিবাদন জানাতে এগিয়ে যান জেলেনস্কি। কিন্তু মেলোনিকে সেই মুহূর্তে কিছুটা ভিন্ন দিকে মনোযোগ দিতে দেখা যায়। তিনি খানিকটা দূরত্ব বজায় রেখে হাত বাড়িয়ে দেন। জেলেনস্কি যখন তার দিকে ঝুঁকেছিলেন, মেলোনির এই আচমকা সরে আসায় পরিস্থিতিটি ক্যামেরায় লেন্সে বেশ অস্বস্তিকর দেখায়।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টিকে যেভাবে ‘জোরপূর্বক চুম্বনের চেষ্টা’ বা ‘মেলোনির ক্ষোভ’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। এর পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করেছে- 

এক. ভুল বোঝাবুঝি ও টাইমিংয়ের অমিল : ইউরোপীয় দেশগুলোতে রাষ্ট্রপ্রধানদের পারস্পরিক সাক্ষাতে গালে গাল স্পর্শ করে অভিবাদন জানানো অত্যন্ত সাধারণ একটি প্রটোকল। জেলেনস্কি যখন সেই প্রথাগত প্রটোকল অনুযায়ী এগিয়ে আসছিলেন, মেলোনি তখন সম্ভবত অন্য কোনো বিশ্বনেতার দিকে তাকিয়ে ছিলেন অথবা হ্যান্ডশেকের জন্য হাত বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন। দুই নেতার টাইমিং ও শারীরিক ভাষার এই সামান্য অমিলের কারণেই মুহূর্তটি ক্যামেরায় কিছুটা অদ্ভুত লেগেছে। 

দুই. সামিট কূটনীতির ব্যস্ততা ও ক্লান্তি: জি-৭-এর মতো উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের চরম ব্যস্ত শিডিউল ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গেও জেলেনস্কির সংক্ষিপ্ত ও তড়িঘড়ি আলোচনা শেষ করার ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক তিক্ততা নয়, বরং সামিটের তুমুল ব্যস্ততা ও ক্লান্তিরই বহিঃপ্রকাশ।

পাশে দাঁড়িয়েছে জি-৭

ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে যতই ট্রল বা মিম তৈরি হোক না কেন, কূটনৈতিক মঞ্চে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। কারণ এই ঘটনার পরপরই যৌথ ঘোষণা পত্রে ইতালিসহ জি-৭ জোটের দেশগুলো ইউক্রেনের প্রতি তাদের অবিচল সামরিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। রাশিয়ার ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সুতরাং, নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া ‘চুম্বনের চেষ্টা ও প্রত্যাখ্যানের’ এই দাবিটি মূলত অতি-নাটকীয়তা এবং দুই নেতার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসতর্ক মুহূর্তের ভুল ব্যাখ্যার ফল ছাড়া আর কিছুই নয়।

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *