বিশ্বকাপ শেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছা আগেই প্রকাশ করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। গত মাসে পর্তুগাল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন জীবন শুরু করতে যাচ্ছেন সিআরসেভেন। অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন রোনালদো ও তার দীর্ঘদিনেরসঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার পর্তুগালে রোনালদোর জন্মভূমি মাদেইরা দ্বীপে জমকালো আয়োজনে জর্জিনাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিতে যাচ্ছেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী রোনালদো এবং ৩২ বছর বয়সী স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন মডেল জর্জিনার বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে মাদেইরার রাজধানী ফুনচালের ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালে।
স্থানীয় নিয়ম মেনে সেখানে দুপুর তিনটায় অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে ফুনচালের বিলাসবহুল পাঁচ তারকা ‘স্যাভয় প্যালেস’ হোটেলে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল, পর্তুগালের সিন্ত্রার বিখ্যাত কুইন্তা দা রেগালেইরা এস্টেটে এই জুটি বিয়ে সারবেন। তবে পরে জানা যায়, ওই এস্টেট নির্ধারিত সময়জুড়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। এরপরই সেই গুঞ্জন থেমে যায় এবং নতুন করে মাদেইরায় বিয়ের তথ্য সামনে আসে।
স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য সান’ জানিয়েছে, স্যাভয় প্যালেস হোটেলের দুটি তলা এবং কয়েকটি বার শুক্র ও শনিবার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অতিথিদের নিরাপত্তার কারণেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফুনচাল শহরের সঙ্গে রোনালদোর আবেগ ও স্মৃতি জড়িত। এখানেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। এই শহরেই তার ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে এবং তার নামে একটি হোটেলও পরিচালিত হচ্ছে। শৈশবের সেই কঠিন দিনগুলো পেরিয়ে আজ বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ধনী ও জনপ্রিয় তারকা নিজের শেকড়েই জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে মাঠ মাতানো রোনালদোর সঙ্গে ২০১৬ সালে একটি ফ্যাশন স্টোরে কাজ করার সময় জর্জিনার পরিচয় হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় প্রেমের সম্পর্ক। এরপর দীর্ঘদিন থেকেই এক সঙ্গে আছেন তারা।

গত বছরের আগস্টে জর্জিনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রোনালদো। সম্প্রতি স্পেনের মায়োর্কায় একটি ইয়র্কে ওঠার সময় তাদের আঙুলে হীরা খচিত আংটি দেখা যাওয়ার পর থেকেই ভক্তদের মাঝে বিয়ের আলোচনা নতুন করে চাঙ্গা হয়।