মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতা আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতি না হলেও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোতে জাহাজ চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১.২৮ ডলার বা ১.৪৪ শতাংশ কমে ৮৭.৭৫ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৪৮ ডলার বা ১.৭৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮২.১১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
সাময়িক পতন সত্ত্বেও চলতি মাসে সামগ্রিকভাবে তেলের বাজার চড়া রয়েছে। এই জুলাই মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সার্বিকভাবে ২১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১৮ শতাংশ বৃদ্ধির পথে রয়েছে, যা গত দুই মাসের টানা দরপতনের ধারায় ছেদ টেনেছে।
মার্কেট বিশ্লেষকরা জানান, বিনিয়োগকারীরা এখন কেবল যুদ্ধের খবরের বদলে জাহাজের বাস্তব চলাচল পর্যবেক্ষণ করছেন। জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা ‘কপলারের’ তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে অন্তত ২৫টি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছে। তবে সংঘাতের কারণে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌযানের উপস্থিতি এখনও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে।
জ্বালানি পথ নিরাপদ রাখতে সৌদি আরব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে পাঁচটি বিশাল ক্রুড ক্যারিয়ার জাহাজ (ভিএলসিসি) ক্রয় করেছে আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক)। তবে মিশরের দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি গ্যাসবাহী জাহাজে সম্প্রতি ড্রোন হামলার ঘটনা এবং ইউক্রেন কর্তৃক রাশিয়ার ভলগোগার্ড তেল শোধনাগারে হামলার খবর বাজারের অনিশ্চয়তা জারি রেখেছে।