বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে ‘কারো স্ক্রিপ্টই মিলছে না’

অস্ট্রেলিয়া সফরের প্রস্তুতি ম্যাচ আর ডারউইনের মূল টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের দুটি রূপ কিছুতেই মেলাতে পারছেন না অনেকে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইগাররা পাত্তাই পাবে না—এমন ভবিষ্যদ্বাণী করার মানুষের সংখ্যাও কম ছিল না।

কিন্তু ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম দুই দিনেই ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। বাংলাদেশের এমন অভাবনীয় ঘুরে দাঁড়ানো দেখে টেস্ট ক্রিকেটেরই জয়গান গেয়েছেন ভারতের সাবেক তারকা স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন।

ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন পিচে ম্যাচের প্রথম দিনেই স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদ ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে একাই শিকার করেন ৬ উইকেট।

বলের সেই ছন্দ ব্যাটাররাও দারুণভাবে ধরে রাখেন। নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ হাসান তামিম। ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে প্রথম ইনিংসেই ১৫৩ রানের বড় লিড নিয়েছে বাংলাদেশ।

প্রস্তুতি ম্যাচ ও মূল লড়াইয়ে বাংলাদেশের এই আকাশ-পাতাল তফাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবাক বিস্ময় প্রকাশ করেছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। সাবেক এই ভারতীয় তারকার মতে, ডারউইন টেস্টে কারও স্ক্রিপ্টই মিলছে না।

ভারতীয় এই কিংবদন্তি স্পিনার নিজের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ‘ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশ, যা কারও স্ক্রিপ্টের সঙ্গেই মিলছে না। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়া দলটাই কি না প্রথম টেস্টের প্রথম দুই দিনেই এমন আধিপত্য দেখাচ্ছে! বাংলাদেশের এই ঘুরে দাঁড়ানো সত্যিই অসাধারণ। টেস্ট ফরম্যাট দীর্ঘজীবী হোক।’

অশ্বিনের মতো একই সুর শোনা গেছে অস্ট্রেলিয়ান ধারাভাষ্যকার কেরি ও’কিফের গলাতেও। ম্যাচ চলাকালীন ধারাভাষ্যে তিনি বলেন, ‘আমার মতে, এটি অস্ট্রেলিয়ার সব মানুষের জন্যই একটি কড়া বার্তা যে, বাংলাদেশ এখানে নিছক খেলতে নয়, লড়তেই এসেছে। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন এই ম্যাচ টিকবে না। কিন্তু বাংলাদেশ স্পষ্টতই প্রথম দিনেই বাজিমাত করেছে।’

কেবল প্রথম দিনই নয়, দ্বিতীয় দিনের পুরো লাগামও নিজেদের হাতে ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। স্টার্ক-হ্যাজলউডরা নতুন বলে দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালালেও মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের প্রতিরোধ সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।

এর আগে তানজিদ তামিম ১০১, নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪ এবং মুমিনুল হক ৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৫১ রান, যেখানে তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৫৩ রানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *