বেশ কিছুদিন ধরেই নানা আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোন্স। এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন তিনি। এমনকি সহকারী কোচের সঙ্গে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির পর টিম হোটেলে পুলিশ ডাকার ঘটনাও সামনে এসেছে। এরমধ্যেই আজ খবর শোনা যায়, তাকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। অবশ্য এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি বাফুফে।
তবে বরখাস্তের এই গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুলেছেন খোদ জোন্স নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জোন্স দাবি করেছেন, তাকে বরখাস্ত করার বিষয়ে বাফুফে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।
ভিডিও বার্তায় নিজের বিস্ময় প্রকাশ করে জোন্স বলেন, ‘ফেডারেশন থেকে বরখাস্তের বিষয়ে আমাকে কিছুই বলা হয়নি। ছড়ানো এই তথ্যগুলোর উৎস কোথায়, তা আমার জানা নেই। কিন্তু বড় প্রশ্ন হলো, এসব মিথ্যা ও বানোয়াট খবর ছড়িয়ে দলের ভেতরের পরিবেশ ও সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে লাভ কী?’
নিজের দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে এমন অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনো হননি জানিয়ে এই ইংলিশ কোচ বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে এমন অভিজ্ঞতার সামনে আগে কখনো পড়তে হয়নি। তবে আশা করছি, আগামী ১০ বছর পর হয়তো এই ঘটনাটি নিয়ে বসে হাসব।’
মূলত গত বুধবার অনূর্ধ্ব-২০ দলের টিম হোটেলে ঘটে যাওয়া একটি অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আলোচনার সূত্রপাত হয়। জানা গেছে, হোটেল রুমে কোচ জেরার্ড জোন্স ও সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতি বা ধাক্কাধাক্কিতে গড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জোন্স নিজেই ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকে পাঠান। দেশের ফুটবল আঙিনায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে এই তথ্য।
এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে বাফুফে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটি ইতোমধ্যে একটি তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারেন জোন্স।
আগামীকালই উজবেকিস্তানের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার কথা রয়েছে অনূর্ধ্ব-২০ দলের। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ঠিক আগে কোচের বরখাস্তের গুঞ্জন ও অভ্যন্তরীণ এই অপ্রীতিকর ঘটনা দলের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার অপেক্ষা তদন্ত কমিটির রিপোর্টের বাফুফে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত জানায়।