বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান চালু করতে ২০,০০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল

দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ কিংবা মূলধন সংকটে সক্ষমতা অনুযায়ী উৎপাদন ও সেবা দিতে পারছে না— এমন শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান আবার সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ নামে চালু হওয়া এ তহবিলের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় কিন্তু আর্থিক সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশের ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ (বিআরপিডি)। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যের অন্যতম চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। মন্থর অর্থনীতি গতিশীল করার লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতি গঠনের মাধ্যমে দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বন্ধ শিল্প ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের বিশেষ করে রপ্তানিমুখী খাতের সম্পূর্ণ বন্ধ কিন্তু পুনরায় চালু করতে সক্ষম এরূপ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আংশিক সচল কিন্তু পূর্ণ উৎপাদনে সক্ষম এরূপ প্রতিষ্ঠানসমুহকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ২০,০০০ (বিশ হাজার) কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করা হয়েছে।

এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হবে। পুনঃচলমান (রিভলভিং) এ তহবিলের মেয়াদ প্রাথমিকভাবে তিন বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই স্কিমের আওতায় জাতীয় শিল্প নীতিমালা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে, যারা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয় মূলধন পেলে পুনরায় উৎপাদন বা সেবা কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না, তারাও এ সুবিধার আওতায় আসবে। তবে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা এ সুবিধা পাবে না।

ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এই ঋণের অর্থ কোনো অবস্থাতেই পুরোনো ঋণ সমন্বয় বা পরিশোধে ব্যবহার করা যাবে না। ঋণের অর্থ কেবল কার্যকর মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও অন্যান্য ইউটিলিটি বিল, কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যয়ে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *