পারফরম্যান্সের অধারাবাহিকতার কারণে আগে থেকেই সমালোচনার মুখে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা। ব্যর্থতার আরেকটি অধ্যায় রচনা করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজও ইতোমধ্যে হাতছাড়া হয়েছে। এসব কিছুর মাঝেই একের পর এক ঘটনায় পাকিস্তান ক্রিকেটে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা।
একদিকে কারাবন্দী সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দুই ছেলের সাক্ষাৎকার ঘিরে বিব্রত পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। অন্যদিকে, সিরিজের মাঝপথে স্কোয়াডের সাত ক্রিকেটার ও দলের প্রধান কোচসহ দুই কোচকে দেশে পাঠানোর ঘটনায় বেড়েছে আলোচনা।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল-হক। পায়ে চোট পাওয়ায় ম্যাচের দুই ইনিংসের একটিতেও ব্যাটিংয়ে নামেননি তিনি। তবে তার চোট নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। কেউ কেউ ঘটনাটিকে চোটের অভিনয় বলেও দাবি করছেন।
ইমামের বিরুদ্ধে অবশ্য এমন অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। অতীতেও ‘ভুয়া ইনজুরির’ অভিযোগ উঠেছিল এই বাঁহাতি ওপেনারের বিরুদ্ধে। এবার সেই অভিযোগ নতুন করে সামনে আসায় বড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন তিনি।
সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুয়া ইনজুরির ঘটনায় ইমাম-উল-হককে এক থেকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে পিসিবি।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ইমাম নন, অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের শৃঙ্খলা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের। এ বিষয়ে তাকে তলব করা হতে পারে। বোর্ডের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে পাকিস্তান দলে জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান। দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলি আঘা, আলি উসমান, আমের জামাল, মুহাম্মদ আওয়াইস জাফর ও খুররম শেহজাদকে।
শুধু ক্রিকেটার নয়, কোচিং প্যানেলেও বড় পরবির্তন এনেছে পিসিবি। টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও পেস বোলিং কোচ উমর গুলকে অব্যাহতি দেওয়ার পর নির্বাচক প্যানেলের সদস্য মিসবাহ-উল-হকও পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। পুরো ঘটনায় তীব্র সমালোচনা করছেন পাকিস্তানের সাবেক ও কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা।
এদিকে ইমাম-উল-হকের চোটের বিষয়টি এখন আর মাঠের আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। তার পায়ের মাংসপেশির চোট নিয়ে তদন্তে নামছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া ডটকম জানিয়েছে, ইমাম-উল-হকও আইনি পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরের একটি পুরোনো ঘটনাও নতুন করে সামনে এসেছে। ওই সফরে ইনডোরে নেট সেশনে একটি বল ইমামের ডান পায়ের বুড়ো আঙুলে আঘাত করে। এরপর তিনি চোটের লক্ষণ বাড়িয়ে দেখিয়েছিলেন এবং চিকিৎসা কর্মীদের বিভ্রান্ত করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পিসিবির তদন্ত কমিটি ওই ঘটনায় ইমামকে দায়ী করেছিল বলেও জানা গেছে।
এতসব ঘটনা মিলিয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটে। যার শেষটা কবে হবে, সেটি অজানা।