বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বড় একটা কালো অধ্যায় ফিক্সিং। গত কয়েক আসরে সেটি আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অন্ধকার এই অধ্যায় বাদ দিয়ে বিপিএলকে স্বচ্ছ রাখতে গত কয়েক আসরের অভিযোগগুলো নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। সেই তদন্ত কমিটি প্রায় এক হাজার পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট জমা দিয়েছিল বিসিবির কাছে।
বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকু) সেই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করছে অনেক দিন ধরেই। এই বিভাগের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের অধীনে এর আগেও ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের নাম প্রকাশ করেছিল বিসিবি। সম্প্রতি আরও তিন জনের নাম প্রকাশ করেছে বোর্ড। যার মধ্যে একজন সাবেক বোর্ড পরিচালকও ছিলেন।
সর্বশেষ তিনজনের নাম প্রকাশের পর দেশের ক্রিকেট পাড়ায় এটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গুঞ্জন আছে, কারো কারো ফিক্সিংরে সঙ্গে জড়িত না থাকারও। বিষয়টি নিয়ে এবার কথা বলেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তামিম বলেন, তাদের তো সময় দেওয়া হয়েছে, তারা এসে এটা ফেস করুক।
তামিম বলেন, ‘অ্যালেক্স মার্শাল স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কারও ওপর অভিযোগ করা না করা, যেটা আপনি বলছিলেন–আমি যতটুকু জানি, সময় তো দেওয়া হয়েছে। তারা এসে জিনিসটা তাদের (আকু) সাথে ফেস করুক। আমি নিশ্চিত, কোনো সিদ্ধান্ত যদি নেওয়া হয়ে থাকে, যথেষ্ট পরিমাণ তথ্য-প্রমাণ আছে দেখেই হয়েছে।’
বিসিবি সভাপতির ভাষ্য, যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তামিম বলেন, ‘এটা তো এভাবে না যে, আপনি কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে বলে দিলেন যে, এটা করতে পারবি না বা করতে পারবি। আপনি তো কারো জীবন নিয়ে খেলতে পারেন না। যতক্ষণ না, আপনার কাছে ওই লেভেলের তথ্য-প্রমাণ আছে–কেউ কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।’
বিপিএলে ফিক্সিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকায় যে নাম প্রকাশ করা হয়েছে, এটা আইসিসির নিয়ম মেনেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তামিম। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এটা আইসিসির নিয়ম মেনেই যেটা করা দরকার, করা হয়েছে। সুতরাং এটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। কেউ যদি মনে করে, এই সিদ্ধান্ত ভুল। তাকে তো ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। ১৪ দিনের মধ্যে উনি সেটা ফেস করুক।’