বড় মেয়ের আত্মত্যাগের গল্প ‘ঝরা বকুল’

নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকুর নাটক মানেই পরিবার, সম্পর্ক আর জীবনের গল্প। সেই ধারাবাহিকতায় এবার দর্শকের মন ছুঁয়েছে তার নির্মিত নাটক ‘ঝরা বকুল’। বিশেষ করে নাটকে সুনেরাহ বিনতে কামালের অভিনীত মনিরা চরিত্রটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

‘ঝরা বকুল’-এর গল্প আবর্তিত হয়েছে একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের বড় মেয়ে মনিরাকে ঘিরে। সংসারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া মেয়েটি পরিবারের কথা ভাবতে ভাবতেই নিজের জীবনটাকে পিছনে ফেলে দেয়। এমনকি মেয়েটি বিয়ে করে চলে গেলে সংসার সামলাবে কে— সেই চিন্তায় তার মা-ও কখনো বিয়ের কথা তোলেন না। অন্যদিকে কবির চরিত্রে অভিনয় করা ইয়াশ রোহান মনিরাকে নিজের জীবনের সঙ্গী হিসেবে পেতে চায়। এমন বাস্তব ও আবেগঘন গল্পেই এগিয়ে যায় নাটকটির কাহিনি।

নাটকটি মুক্তির পর দর্শকদের মন্তব্যেও উঠে এসেছে সুনেরাহর অভিনয়ের প্রশংসা। ইউটিউবে নাটকটির মন্তব্যঘরে এক দর্শক লিখেছেন, ‘জানিনা মানুষ সুনেরাহকে নিয়ে এত খারাপ মন্তব্য কেনো করে। ওর কণ্ঠ, ওর চেহারা সবই অন্য রকম। আর কেন জানি সব ধরনের অভিনয়ে মানিয়ে যায়। বড়লোকের মেয়ে, গরিবের বাড়ির মেয়ে, অহংকারী কিংবা নিরহংকারী— সব চরিত্রেই তাকে মানিয়ে যায়।’

রঙ্গন এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত নাটকটি প্রযোজনা করেছেন জামাল হোসেন। নাটকটির সাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রম্য, রোমান্টিক কিংবা অতিরিক্ত আর্টধর্মী কাজ দেখতে দেখতে দর্শক ক্লান্ত। এসব গল্পে অনেক সময় বাস্তবতার ঘাটতি থাকে। এখন দর্শক পরিবারের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম আর সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই নিজেদের খুঁজে পান।’

নির্মাতা রাফাত মজুমদার রিংকু বলেন, ‘আমি সব সময় পারিবারিক গল্পকে গুরুত্ব দিয়ে আসছি। এই নাটকেও দর্শক সেটাই দেখছেন। মানুষ যখন কোনো গল্পে নিজেদের জীবনের প্রতিফলন খুঁজে পান, তখন সেটি সহজেই গ্রহণ করেন। সম্ভবত এ কারণেই ‘ঝরা বকুল’ দর্শকদের এত ভালো লাগছে।’

নাটকটিতে আরও অভিনয় করেছেন ডলি জহুর, রোজী সিদ্দিকী, গোলাম ফরিদা ছন্দাসহ অনেকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *