বই পড়ে পুরস্কার পেলো খুলনার ৪৬ স্কুলের ৩২৬৯ শিক্ষার্থী

বছরব্যাপী বই পড়ার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে খুলনা মহানগরীর ৪৬টি স্কুলের ৩ হাজার ২৬৯ জন শিক্ষার্থী পুরস্কার পেয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) খুলনার সেন্ট জোসেফস উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসবের আয়োজন করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে গ্রামীণফোন।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি প্রকল্পের পরিচালক মু. বিল্লাল হোসেন খান, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ইরুফা সুলতানাসহ শিক্ষাবিদ, প্রকৌশলী, বিজ্ঞান সংগঠক, শিক্ষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সেন্ট জোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে অতিথিরা বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং বই পড়ার গুরুত্ব নিয়ে তাদের উৎসাহিত করেন।স্বাগত বক্তব্যে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক খোন্দকার মো. আসাদুজ্জামান বছরব্যাপী বই পড়ার কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে বই পড়ার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মু. বিল্লাল হোসেন খান বলেন, বই পড়া, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি কমানো সম্ভব। তাই শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি বই পড়ার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক মুহাম্মাদ আলী নকী বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সৃজনশীল সাহিত্য ও ভালো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ভালো বই শুধু গল্প বলে না, বরং পাঠকের মনের কথাও শোনে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এবারের উৎসবে ৪৬টি স্কুলের ৩ হাজার ২৬৯ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫৭ জনকে সরাসরি মঞ্চ থেকে এবং ১৬টি স্কুলের বাকি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার সংশ্লিষ্ট স্কুলের সংগঠকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে ২ হাজার ২৫৪ জন ‘শুভেচ্ছা’, ৯২৩ জন ‘অভিনন্দন’ এবং ৯২ জন ‘সেরা পাঠক’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে। তাদের মধ্যে ছেলে ১ হাজার ১৪৬ জন এবং মেয়ে ২ হাজার ১২৩ জন।

এদিকে, এ বছর প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অনলাইন সেফটি ফান্ডামেন্টালস’ নামে সচেতনতামূলক অনলাইন কোর্স চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিশু-কিশোর ও অভিভাবকদের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে মৌলিক ধারণা দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানস্থলে ‘অনলাইন সেফটি কর্নার’-এর মাধ্যমে শিশুদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ সম্পর্কে অভিভাবক ও শিক্ষকদের সচেতন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *