গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে ফ্রিল্যান্সার শাকিল আহমেদের ভাড়া বাড়িতে আগুন লেগে কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার সম্পদ পুড়ে ছাই হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, রাত ৯টার দিকে শাকিল মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ভাড়া বাড়িতে তালা দিয়ে বাইরে চলে যান। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে তার ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করার পাশাপাশি গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আগুনে শাকিলের ঘরে থাকা ১০ ভরি স্বর্ণ, দুটি কম্পিউটার, একটি ল্যাপটপ, টেলিভিশন, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, এসিসহ ঘরের প্রায় সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শাকিল আহমেদ আপওয়ার্কের একজন টপ-রেটেড গ্রাফিক ডিজাইনার।
শাকিল আহমেদ বলেন, আমার জীবনের সব অর্জন আজ শেষ হয়ে গেল। আমার ফ্রিল্যান্সিংয়ের অ্যাকাউন্টগুলো যে কম্পিউটারগুলোতে লগইন করা ছিল, সেগুলো পুড়ে গেছে। সেগুলো ফিরে পাওয়া আর সম্ভব নয়। সেই সঙ্গে আমার সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শাকিলের স্ত্রী মুন্নী বেগম বলেন, আমরা পরিবারের কোনো টাকা ব্যাংকে রাখিনি। টাকাসহ সব জিনিসপত্র আজ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি সরকারের কাছে আবেদন করব, আমাদের সহযোগিতা করুন। দেশে রেমিট্যান্স নিয়ে আসতে যে যন্ত্রপাতি ছিল, সব পুড়ে গেছে। আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব কি না, জানি না।
মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনারুল ইসলাম প্রধান বলেন, শাকিল দেশের একজন রেমিট্যান্সযোদ্ধা। আজ এই অগ্নিকাণ্ডে তার সবকিছু পুড়ে গেছে। আমরা চাই, আবারও সে আগের মতো দেশে রেমিট্যান্স নিয়ে আসুক এবং দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করুক।
গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার স্টেশন মাস্টার মাসুদ রানা বলেন, আগুনের তীব্রতা অনেক বেশি ছিল। আমরা যতদূর দেখেছি, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫০ লাখ টাকার মতো হতে পারে।